শিশুদের নিরাপত্তায় ব্যর্থতার অভিযোগ মেটাকে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

প্রকাশিত: 7:28 PM, August 7, 2026

শিশুদের নিরাপত্তায় ব্যর্থতার অভিযোগ মেটাকে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করতে ব্যর্থ হওয়ায় মেটাকে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর এক বিচারক। শিশু নিরাপত্তা ইস্যুতে মেটার বিরুদ্ধে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জরিমানা।

বৃহস্পতিবার রায় দেওয়ার সময় বিচারক ব্রায়ান বিডশিড মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি ‘পাবলিক নিউস্যান্স’ বা জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মেটাকে এমন একটি তহবিল গঠন করতে হবে, যার অর্থ ভবিষ্যতে শিশুদের ক্ষতি কমাতে ব্যবহার করা হবে।

 

নতুন ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের জরিমানার সঙ্গে আগের রায়ে দেওয়া ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার যোগ হলে এই মামলায় মেটার মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার।

বিচারক বিডশিড মেটাকে একটি কারখানার সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, মেটার পণ্য হলো বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট, আর শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণ হলো সেই কারখানা থেকে বের হওয়া দূষণ, যা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

 

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডসের মালিক মেটা অবশ্য আদালতের রায়ের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

 

মেটার দাবি, প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিরাপদ রাখতে তারা নিয়মিত কাজ করছে এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট ও অপরাধীদের শনাক্ত ও অপসারণের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সে বিষয়ে তারা স্বচ্ছ ছিল। কিশোরদের অনলাইনে সুরক্ষায় নিজেদের ভূমিকা নিয়েও প্রতিষ্ঠানটি আত্মবিশ্বাসী বলে জানিয়েছে।

 

নিউ মেক্সিকোর এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালে। রাজ্যটির অ্যাটর্নিরা অভিযোগ করেছিলেন, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে এবং তাদের যৌন কনটেন্ট ও যৌন অপরাধীদের সংস্পর্শে নিয়ে যাচ্ছে।

 

বিচারকের মতে, মেটার প্ল্যাটফর্মে শিশুদের ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে, তা শুধু অনলাইন জগতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর প্রভাব বাস্তব জীবনেও ছড়িয়ে পড়ছে এবং শিশু, তাদের পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ওপর সামাজিক বোঝা তৈরি করছে।

 

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মেটাকে যে তহবিল গঠন করতে হবে, তার বড় অংশ শিশুদের ইতোমধ্যে হওয়া ক্ষতির চিকিৎসা ও মোকাবিলায় ব্যয় করা হবে। মোট ৪২০ মিলিয়ন ডলার উপযুক্ত ক্লিনিক্যাল ও আচরণগত স্বাস্থ্যসেবা এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের অর্থায়নে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণসহ সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমেও অর্থ ব্যয় করা হবে।

 

শিশুদের সুরক্ষায় মেটাকে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক। এর মধ্যে রয়েছে-

 

১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট কোনো প্রাপ্তবয়স্কের কাছে সুপারিশ না করা;

 

প্রাপ্তবয়স্কদের অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের মেসেজ পাঠানোর সুযোগ বন্ধ করা;

 

অপ্রাপ্তবয়স্কদের নগ্ন ছবি পাঠানো বা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা;

 

শিশু যৌন শোষণে জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে ‘একবারেই নিষেধাজ্ঞা’ নীতি চালু করা;

 

১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের ‘লাইক’ সংখ্যা গোপন করা;

 

রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত তাদের পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা;

 

স্কুল চলাকালে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন এর ব্যতিক্রম থাকবে;

 

ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মাসে সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টা ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করা।

 

শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে। যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার পাশাপাশি রাতের সময়ে কিশোরদের ব্যবহার সীমিত করতে ‘কারফিউ’ চালুর পরিকল্পনা জানিয়েছে।

 

মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে একই ধরনের হাজারো মামলা চলছে। চলতি বছরের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলাতেও মেটাকে দায়ী করা যায় বলে রায় দেওয়া হয়। ওই মামলায় অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠানটি এমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে যা ব্যবহারকারীদের জন্য আসক্তিকর।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

November 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30