সিলেট ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
কলকাতার বাংলাদেশি পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আবাসিক এলাকা ফ্রি স্কুল স্ট্রিট-মারকুইস স্ট্রিট এলাকায় হোটেল সংকট আরও তীব্র হয়েছে। শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জন নিহত হওয়ার পর প্রশাসনের অভিযানে একের পর এক বাজেট হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীরা।
গত বুধবার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইনে আগুনে নয়জন নিহত হওয়ার পর মারকুইস স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও কলিন লেন এলাকার হোটেল-গেস্টহাউসে ব্যাপক পরিদর্শন শুরু করে কর্তৃপক্ষ। অগ্নিনিরাপত্তা ও লাইসেন্সসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং কিছু ভবন সিলগালা করা হয়েছে। ভারতীয় বার্তাসংস্থা টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
বছরের পর বছর ধরে মারকুইস স্ট্রিট-সদর স্ট্রিট-নিউ মার্কেট এলাকা বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয়। তুলনামূলক কম খরচ, সহজ যাতায়াত এবং একই এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকান ও ট্রাভেল এজেন্সির আধিক্যের কারণে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশি ও পর্যটকদের কাছে এলাকাটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
তবে হঠাৎ প্রশাসনিক অভিযানে ব্যাপক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রায় ৫০০টি হোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান মিশ্র ব্যবহারের ভবনে পরিচালিত হচ্ছে এবং বৈধ অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেককে বাধ্য হয়ে মধ্য কলকাতা থেকে দূরে সরে যেতে হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে ইএম বাইপাস এলাকার হোটেলগুলোতে ভিড় বাড়ছে। বড় বড় সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতালের কাছাকাছি হওয়ায় ওই এলাকায় থাকার ব্যবস্থা করছেন অনেকে।
তবে অসুস্থ রোগীদের জন্য এই স্থানান্তর বাড়তি ভোগান্তি তৈরি করেছে। অতিরিক্ত যাতায়াত, বেশি খরচ এবং শারীরিক কষ্টের মুখে পড়ছেন তারা।
ঢাকার বাসিন্দা মো. সোহেল ইসলাম ফলোআপ চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়ে মারকুইস স্ট্রিটের একটি হোটেলে ছিলেন। তিনি জানান, মাত্র তিন ঘণ্টার নোটিশে তাকে স্ত্রীসহ হোটেল ছাড়তে বলা হয়।
সোহেল বলেন, ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র না থাকায় প্রশাসন সেটি সিল করে দেয়। পরে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘুরে বাইপাসের মুকুন্দপুর এলাকায় একটি খালি কক্ষ পান। তবে সেখানে ভাড়া বেশি এবং মারকুইস স্ট্রিটের মতো প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও নেই।
শুধু চিকিৎসা নিতে যাওয়া ব্যক্তিরাই নন, আবাসন সংকটের কারণে বাংলাদেশি পর্যটকরাও কলকাতা সফর সংক্ষিপ্ত করছেন।
যশোরের ব্যবসায়ী জুবিন আহমেদ পাঁচ দিনের বাণিজ্যিক সফরে কলকাতায় এসেছিলেন। তবে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা অগ্নিকাণ্ড ও হোটেলগুলোতে প্রশাসনের অভিযানের খবর দেখে দ্রুত দেশে ফিরতে চাপ দেওয়ায় তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই আপাতত ক্ষতি মেনে নিয়ে দেশে ফিরে যাওয়াই নিরাপদ মনে করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার কলকাতায় আসবেন বলেও জানান তিনি।
কলকাতায় বেড়াতে আসা শাজিয়া সুলতানেরও সফর দুই দিন কমেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি যে গেস্টহাউসে ছিলেন, সেখানে নোটিশ দেওয়ার পর অন্য হোটেলগুলো বন্ধ অথবা পূর্ণ থাকায় তিনি নির্ধারিত সোমবারের পরিবর্তে আগেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
আবাসন সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর ওপরও। দ্রুত বাংলাদেশে ফিরতে আগ্রহী পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে সেখানে। স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্ট গোপাল মান্না জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় তাৎক্ষণিক ফেরার টিকিটের অনুরোধ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
তার ভাষ্য, অগ্নিকাণ্ডের পর একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই নিরাপদে দেশে ফেরার জন্য দ্রুত বাসের টিকিট সংগ্রহ করছেন।