সিলেট ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
ইরান তার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে কথিত ওই হত্যাচেষ্টা কখন, কোথায় এবং তার কোন ছেলেকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।
সোমবার ইসরায়েলের রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য একটি ঘটনা। ইরান আমার এক ছেলেকে লক্ষ্য করেছিল। তারা তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।’
অক্টোবরে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পিছিয়ে থাকার মধ্যেই তার এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি অবস্থানে থাকা ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে এ মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলের একটি নিরাপত্তা সংস্থা আইজেনকোটকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এমন খবরের প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু তার জন্য ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তার পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, এটি কোনো বিলাসিতা নয়। তার ভাষায়, নিরাপত্তা না থাকলে ‘ইরানিরা সফল হবে’।
নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্য জেরুজালেম পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ও স্ত্রীকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাড়তি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ৩৫ বছর বয়সী ইয়ার নেতানিয়াহু ২০২৪ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি শহরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করছেন। তাকে নিরাপত্তা দিতে ইসরায়েলি করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে দেশটিতে বিতর্কও রয়েছে।
এদিকে ইরান এরই মধ্যে দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার মেয়ে বোশরা ও ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরাসহ পরিবারের আরও চার সদস্য নিহত হন।
খামেনির মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তবে বাবার শেষকৃত্য উপলক্ষে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি সাবেক সর্বোচ্চ নেতার “রক্তের প্রতিশোধ” নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধের হুমকি এবং ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচন দুইয়ের মধ্যে নেতানিয়াহুর সর্বশেষ মন্তব্য দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।