সিলেট ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
শিক্ষার্থীদের পছন্দের ক্যারিয়ার, সামাজিক মূল্যবোধ গড়তে ও মেধা বিকাশে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, সরকার এমন এক তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর, যাদের মধ্যে মানবিক গুণাবলী, দৃঢ় পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার চমৎকার মেলবন্ধন থাকবে। রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের কল্যাণে সুনাগরিক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ স্কাউটসের স্পেশাল ইভেন্টস বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জনকারী স্কাউটদের জন্য কেন্দ্রীয় ও রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে আরও বেশি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন,প্রধানমন্ত্রী এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা ও বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যা শিক্ষার্থীদের কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে না; বরং তাদের সৎ, যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাঝে মানবিক গুণাবলী, দৃঢ় পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি করবে।
পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে গিয়ে শিক্ষার বাস্তবমুখী প্রয়োগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আমরা এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবল পুঁথিগত শিক্ষায় সুশিক্ষিত হবে না, বরং বাস্তব জীবনে তার কার্যকর প্রয়োগ ঘটাতেও শিখবে। অর্থাৎ শুধু ভালো রেজাল্ট করা কিংবা সার্টিফিকেট অর্জন করাই জীবনের একমাত্র সাফল্য নয়; জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল হতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর এই জায়গায় মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের রয়েছে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা।’
পরীক্ষায় দারুণ ফলাফলের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের অগ্রণী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক অর্জনের পাশাপাশি সুনাগরিকের গুণাবলী অর্জনের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনের বাংলাদেশকে তোমরাই নেতৃত্বের আসনে বসে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
গতানুগতিক ক্যারিয়ার ভাবনার বাইরে এসে পছন্দের ক্ষেত্রে মেধা বিকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবসময় একটি কথা বলেন যে সবাইকে কেবল ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ারই হতে হবে, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। যার যে বিষয়ে পড়তে ভালো লাগে, যে বিষয়ে মনোনিবেশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ হয়, সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সেই সুযোগ ও সহায়তা প্রদান করব। কারও যদি হিউম্যানিটিজ বা সোশ্যাল সায়েন্স ভালো লাগে, কারও যদি ড্রয়িং বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে আগ্রহ থাকে, কারও যদি খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন থাকে, কিংবা কারও হয়তো বিতর্ক বা বিজ্ঞানচর্চায় বেশি আগ্রহ, যার যে ক্ষেত্রে মেধার বিকাশ ঘটিয়ে পেশাগতভাবে সফল হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। সরকার তাদের সেই পছন্দের পথেই মেধার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সহযোগিতা প্রদান করবে।’
মেধাবী তরুণদের হাত ধরেই সমৃদ্ধ, মানবিক ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মাহ্দী আমিন। সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের আগামীর বাংলাদেশ পরিচালনার মূল কাণ্ডারী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সততা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমকে জীবনের ভিত্তি বানিয়ে শিক্ষার্থীদের দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফল কোনো শেষ নয়, বরং এটি বড় লক্ষ্য অর্জনের প্রাথমিক ধাপ মাত্র। জীবনে চ্যালেঞ্জ কিংবা ব্যর্থতা এলেও হতাশ না হয়ে নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখাতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত প্রতিটি অর্জনকে সমাজ ও দেশের উন্নতির কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নিজের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, প্রায় আড়াই দশক আগে তিনি যখন শিক্ষার্থী ছিলেন, তখন পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রীর হাত থেকেই একাধিকবার পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সমর্থন দেওয়া হবে। সংবর্ধনার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে এই মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে গর্বিত করবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষার্থীদের আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল কাণ্ডারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, তরুণরা দেশের জন্য ও মানুষের কল্যাণে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবে। মেধাবী এই তরুণদের পথচলা সহজ করতে এবং তাদের স্বপ্নের বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা অব্যাহত রাখার পূর্ণ আশ্বাস দেন তিনি।
বাংলাদেশের স্কাউটদের এগিয়ে নিতে এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সরকার সার্বিক নীতি নির্ধারণী সহযোগিতা দিচ্ছে বলেও মাহ্দী আমিন। স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও সচিবগণ স্কাউটদের সার্বিক উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখছেন, যা এই সংগঠনের প্রতি সরকারের বিশেষ গুরুত্বকেই নির্দেশ করে।
বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক,কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্কাউটসের ১৩টি অঞ্চল থেকে ৫৮০ জন মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউট অংশ নেন এবং অভিনন্দন পত্র ও মেডেল গ্রহণ করেন। একই সাথে তাদের নির্ধারিত প্রাইজমানি প্রদান করা হয়।