জুড়ীতে দুইযুগ পর স্থায়ী বিশটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেন ইউএনও

প্রকাশিত: ১০:৩০ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২০

জুড়ীতে দুইযুগ পর স্থায়ী বিশটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেন ইউএনও

কামরুল হাসান নোমান/জুড়ীঃঃ
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কামিনীগঞ্জবাজারের প্রবেশমুখে সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ২০টি স্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অসীম চন্দ্র বনিক। জানা যায়, দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে বাজারের প্রবেশ মুখে সড়ক ও জনপথের জায়গায় অবৈধভাবে দোকানপাট তৈরি করে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা বানিজ্য করে আসছিলেন। এতে রাস্তার জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে।

 

রাস্তা দিয়ে মূল বাজারে কোনপ্রকার যানবাহন প্রবেশ করতে পারত না। এমনকি পথচারীদের চলাচলেও ছিল চরম দূর্ভোগ। দীর্ঘ সময়ে জায়গাটি দখলদারমুক্ত করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। বর্তমানে বাজারের সৌন্দর্য্য বর্ধন সহ যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করণে উদ্দ্যোগ নেন ইউএনও। ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে বাজারের নির্ধারিত জায়গায় তাঁদের পুণর্বাসনের ব্যবস্থা করে অবৈধ স্থাপনা তুলে নিতে বলেন।

 

ব্যবসায়ীরা এতে সাড়া দিয়ে নিজেদের তৈরি স্থাপনা তুলে নিয়ে মূল বাজারে বসেন। তাঁদের মধ্যে যারা অতি দরিদ্র সবার জন্য ত্রাণেরও ব্যবস্থা করা হয়। এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাছুম রেজা। কয়েকদিন পূর্বে রাস্তার দু’পাশের ফুটপাত দখলমুক্ত করে ব্যবসায়ীদের কামিনীগঞ্জবাজারের জন্য সরকার নির্ধারিত স্থানে বসানো হয়। এতে কালের স্রোতে যৌবন হারানো উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীণ বাজারটি আবারো প্রাণ ফিরে পায়।

 

মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করায় রাস্তাটি বেশ চওড়া হয়েছে। অনায়াসে বাজারের ভেতরে যানবাহন সহ পথচারী যাতায়াত করছেন। ময়লা আবর্জনার স্তূপও নেই।

 

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মূল বাজারে মানুষের আসা যাওয়া কম থাকায় তাঁরা রাস্তার পাশে দোকান তৈরি করে ব্যবসা করছিলেন। বর্তমানে ফুটপাত উচ্ছেদ করে বাজারটি পুনরায় সচল করা হয়েছে। ইউএনও তাঁদের বৈধভাবে মূল বাজারে বসে ব্যবসা করার সুযোগ করে দেওয়ায় স্বেচ্ছায় নিজেদের দোকানগুলো সরিয়ে নিয়েছেন।

 

ব্যবসায়ী মাসুক মিয়া বলেন, প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে তিনি রাস্তার পাশে টিনশেডের দোকানে বসে ব্যবসা করছিলেন। বর্তমানে বৈধভাবে বসার জায়গা করে দেওয়ায় তিনি স্বেচ্ছায় দোকান তুলে নিয়ে মূল বাজারে বসছেন।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার অসীম চন্দ্র বনিক জানান, জুড়ীর ইতিহাসে কামিনীগঞ্জবাজারের বিশাল অবদান রয়েছে। এ বাজারের প্রবেশমুখে সারিবদ্ধভাবে দোকানগুলো অবৈধভাবে গড়ে উঠেছিল। বাজারের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে কোন শক্তি প্রয়োগ ছাড়াই ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে মূল বাজারে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930