বৃষ্টির অপেক্ষায় চা বাগান

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২০

বৃষ্টির অপেক্ষায় চা বাগান
Spread the love

১৪৪ Views

লন্ডন বাংলা ডেস্কঃঃ

 

দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ সিলেট । আর যারা সবুজ-সতেজ চা বাগান দেখেছেন তারা এখন পাহাড়ি এলাকায় গেলে অনেকেই হয়তো অভাক হবেন। অনেকে হয়তো ভাববেন চা গাছগুলো মরে গেছে অথবা রুক্ষ-সুক্ষ হয়ে মরার পথে। কারণ বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় এখন সবুজের ছিটে-ফুটাও নেই। আছে শুধু ধারালো শুলের মতো ডাল-পালা। তবে চিন্তার কিছু নেই, চা বাগানের কোন ক্ষতি হয়নি। বরং চা গাছের উপকারের জন্যই কেটে ফেলা হয়েছে সবুজ অংশ। যাকে বলা হয় ‘প্রুনিং’ বা কলম করা।

 

চা গাছের সুস্বাস্থ্য এবং অধিক উৎপাদনের জন্য প্রতি বছর বাগানে এ ‘প্রুনিং’ করা হয়। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে ‘প্রুনিং’ কার্যক্রম। এ সময় চা উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

 

ইতোমধ্যে হবিগঞ্জের মাধবপুর, চুনারুঘাট, বাহুবল ও নবীগঞ্জের সবগুলো চা বাগানে ‘প্রুনিং’ কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে। এখন চা বাগানগুলো মূলত বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছে। বৃষ্টি এলেই নতুন ‘কুঁড়ি’ গজাবে বাগানগুলোতে। আবার সবুজে সবুজে ভরে উঠবে চারপাশ। বাগানগুলো ফিরে পাবে তার যৌবনময় চিরচেনা রূপ।

 

দেশের ১৬৪টি চা বাগানের মধ্যে হবিগঞ্জে রয়েছে ৪৫টি। জেলার চুনারুঘাট, মাধবপুর, নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের চা ভুমির পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার ৭০৩.২৪ হেক্টর।

 

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে দেখা যায়- সবগুলোরই ‘প্রুনিং’ শেষ হয়ে গেছে। গাছের নিচ পরিস্কার করে বাড়তি যত্ন নেয়া হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও নতুন চারা লাগানোর কাজ চলছে। বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় এখন কোন সবুজের দেখা নেই। তবে কোন কোন চাগানে এখনও শ্রমিকদের বাড়তি পরিচর্যা করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার বাগানগুলোতে বিভিন্ন ধরণের কিটনাশক স্প্রে করছেন।

 

দেওন্দি চা বাগানের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন বলেন- ‘চা বাগানের ‘প্রুনিং’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতি বছরই এ ‘প্রুনিং করতে হয়। এটি না করলে ভালো উৎপাদন পাওয়া যায় না।

 

তিনি বলেন- ‘ইতোমধ্যে চা বাগানের ‘প্রুনিং কাজ শেষ হয়েছে। এখন যত তাড়াতারি বৃষ্টি হবে ততো তাড়াতাড়ি বাগানে ‘কুঁড়ি’ গজাবে। আশা করা যাচ্ছে এ বছর গত বছরের তুলনায় উৎপাদন বেশি হবে।

লস্করপুর ভ্যালির চেয়ারম্যান ও চাকলাপুঞ্জি চা বাগানের ব্যবস্থাপক এসসি নাগ বলেন, ‘শীতকালীন পরিচর্যা ও প্রুনিং শেষ হয়েছে। এখন ‘মার্চিং’ মাটি আচ্ছাদন করা হচ্ছে। এখন বৃষ্টি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ বৃষ্টি হলেই গাছগুলো সবুজ হয়ে উঠবে।’


Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Follow us

আর্কাইভ

November 2022
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930