সিলেট ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:২০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০২৪
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃঃ
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএর জেনারেলদের বিরুদ্ধে যে শুদ্ধি অভিযান চলছে, তা বাহিনীটিকে দুর্বল করতে পারে। বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর এ অভিযান চালানো হচ্ছে। এ শুদ্ধি অভিযান আরও সময় ধরে অব্যাহতভাবে চলবে। এটা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সামরিক বাহিনী আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টাকে ধীরগতি করতে পারে। বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে শনিবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব বলা হয়।
চীনের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত শুক্রবার দেশটির শীর্ষ আইনপ্রণেতারা ৯ জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে পার্লামেন্টের জাতীয় আইনপ্রণয়ন কমিটি থেকে বহিষ্কার করেছেন। এটা এমন এক পদক্ষেপ যা দোষীদের জন্য পরে আরও বেশি শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারে। বহিষ্কৃত জেনারেলদের মধ্যে অনেকেই চীনের অভিজাত রকেট ফোর্সের কর্মকর্তা। সামরিক বাহিনীর এ অংশ কৌশলগত ও পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করে। প্রেসিডেন্ট জিনপিং ২০৫০ সালের মধ্যে চীনের সামরিক বাহিনীকে বিশ্বমানের করতে আধুনিকীকরণের চেষ্টার অংশ হিসেবে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় ও উন্নয়ন ঘটাতে আগ্রহী। এ প্রেক্ষাপটে শুদ্ধি অভিযান চলছে।
এরই মধ্যে বেইজিং তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেকটা বাড়িয়ে প্রতিরক্ষা বাজেট করেছে। এ অবস্থায় সামরিক বাহিনীর জেনারেল ও অস্ত্র সরবরাহকারীদের এ পতন জিনপিংয়ের ভাবমূর্তিকে কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন করছে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন তুলছে– এত বৃহৎ সামরিক বিনিয়োগের পেছনে পর্যাপ্ত পরিকল্পনা রয়েছে কিনা। কারণ, চীনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। এ ছাড়া তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগরে সংকট তো রয়েছেই। ২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর জিনপিং কমিউনিস্ট পার্টি ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।
তবে পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ ছিল তাঁর টার্গেটগুলোর মধ্যে অন্যতম। তিনি শুরু থেকেই সামরিক বাহিনীতে শুদ্ধিকরণ চাইছিলেন। ৯ জেনারেলকে বহিষ্কারের প্রশংসা করেছে সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকটি বিভাগ। বহিষ্কার হওয়াদের মধ্যে তিনজন পিএলএ রকেট ফোর্সের সাবেক কমান্ডার ও উপকমান্ডার; একজন বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান ও একজন দক্ষিণ চীন সাগরের নৌ-কমান্ডার। চারজন কর্মকর্তা সরঞ্জাম ক্রয়-সংক্রান্ত দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হয়েছেন। ইউনাইটেড ইনস্টিটিউট ফর পিসের চীন বিষয়ক খ্যাতিমান ফেলো অ্যান্ড্রু স্কোবেল বলেন, এটা পরিষ্কার যে, তারা শুদ্ধি অভিযানের শিকার।
ঠিক কী দোষে এ কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি বেইজিং। কয়েকজন বিশ্লেষক বলছেন, হতে পারে তারা পিএলএ রকেট ফোর্সের জন্য অস্ত্র কিনতে গিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ স্কুল অব পাবলিক পলিসির অধ্যাপক আলফ্রেড উ বলেন, আরও কয়েকটি মাথা নড়তে পারে (বহিষ্কার হতে পারেন)। রকেট ফোর্সকে কেন্দ্র করে শুদ্ধি অভিযান চলতে থাকবে। রকেট ফোর্সের প্রধান চীনের সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওয়েই ফেঙ্গিকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি কোথায়– জানতে চাইলে গত আগস্টে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘চীনের সামরিক বাহিনী জিরো টালারেন্স’ অবস্থানে রয়েছে। গত অক্টোবরে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে লি সাঙফুকে আকস্মিক সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বেশ কয়েক মাস নিরুদ্দেশ ছিলেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্নীতির জন্য চীনের সামরিক বাহিনীর দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও সাম্প্রতিক ধড়পাকড় অভিযান ও পিএলএর রকেট ফোর্সের জড়িত থাকাটা হতাশাজনক। এটা বাহিনীটিকে সাময়িক সময়ের জন্য দুর্বল করতে পারে। শি জিনপিংয়ের এ শুদ্ধি অভিযান কখনও শেষ হয়ে যাবে– তা নিয়েও সন্দিহান অনেক বিশ্লেষক।