চক বাজার ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসা অ্যাডহক কমিটি নিয়ে ভূয়া স্বাক্ষরে ডিসির কাছে অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২৫

চক বাজার ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসা অ্যাডহক কমিটি নিয়ে ভূয়া স্বাক্ষরে ডিসির কাছে অভিযোগ

প্রতিনিধি/ওসমানীনগরঃঃ
সিলেটের ওসমানীনগরের চকবাজার ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার আশ-পাশ সচেতন নাগরিকের নাম দিয়ে এবং স্বাক্ষর জালিয়াতি করে সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০জন স্বাক্ষরিত এই অভিযোগ নিয়ে এলাকায় তুলপার চলছে।

 

যাদের নাম ব্যবহার করে অভিযোগ দেয়া হয়েছে সেই অভিযোগ পত্রে তারা কোন স্বাক্ষর করেনি বলে পৃথক সভায় জানিয়েছেন। এসব ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

 

মাদ্রাসা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন চকবাজার ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার এডহক কমিটি গঠনের অনিয়ম নিয়ে এডহক কমিটির সভাপতি ডা:মিজানুর রহমান জরিয়ে একটি অভিযোগ দেয়া হয় সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে। যাদের স্বাক্ষরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে, তারা এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। অভিযোগের ভিত্তিতে গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হলে ২৮ জুন এই বিষয় নিয়ে এলাকার সচেতন নাগরিকরা ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে ৭ জুলাই মাদ্রাসার হল রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক সৈয়দ ইছহাক আলী। এসময় জাল স্বাক্ষর দিয়ে মিথ্যা অভিযোগের নিন্দা প্রকাশ করেন উপস্থিতরা।

 

এসময় বক্তারা বলেন, বিগত ৪ মে গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্থরের জনগনের ঐক্যমতের ভিত্তিতে এডহক কমিটির সভাপতি পদে তিন জনের নাম প্রস্থাবিত তালিকা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে প্রেরণ করা হয়। পরে প্রস্থাবিত তিন জনের মধ্যে ডাঃ মিজানুর রহমানকে এডহক কমিটির সভাপতি মনোনিত করেন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এই এডহক কমিটি নিয়ে নিয়ম ও বিধি লঙ্ঘনের যে অভিযোগটি দেয়া হয়েছে তা ভিত্তিহীন। এই মিথ্যা অভিযোগকারী যে বা যারা হোন না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

 

পরে মাদ্রাসার এডহক কমিটির প্রতি অনাস্থার কথা জানিয়ে যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে তাদের মধ্যে ১৭ জন স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ দেয়া হয় প্রশাসনে। প্রশাসনে দেয়া আগের মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদ ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিলেট জেলা প্রশাসক,ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তারা।

 

অভিযোগে স্বাক্ষরকারী আবু ইউসুফ মো: আজাদ, সৈয়দ ইছহাক আলীসহ একাধিক ব্যক্তি নিজের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অভিযোগ দেয়ার বিষয়টি জানিয়ে তারা বলেন, গত ২ জুন মাদ্রাসার এডহক কমিটি নিয়ে অভিযোগপত্রে তারা কোন স্বাক্ষর করেন নি। তবে, ৭ জুলাই মাদ্রাসার হল রুমে এক আলোচনা সভার পর প্রশাসনে দেয়া প্রতিবাদ অভিযোগে নিজেদের স্বাক্ষর দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

এই বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, স্বাক্ষর জাল করে অভিযোগ দেয়ার বিষয়ে একটি পত্রের অনুলিপি পেয়েছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Spread the love