সিলেট ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:১৯ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০২৬
প্রতিনিধি/নবীগঞ্জ :-
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের রাইয়াপুর গ্রামের একটি খাল বেসরকারিভাবে লিজ নিয়ে কৃষক সমসু মিয়াকে নির্মমভাবে হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করে বিপাকে বাদী পরিবার! অভিযোগ পাওয়া যায়, মামলার অভিযুক্তরা তাদেরসহযোগী কর্তৃক বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য নানান ভানে প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। এ ঘটনায় গত (১৯ মে) ২০২৬ ইং তারিখে আহত সমসু মিয়ার ভাই ও মামলার বাদী নজির মিয়া জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন৷
তিনি সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করে গণমাধ্যমকে জানান, বিগত ১ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ সন্ধ্যারাতে মামলার বাদী রাইয়াপুর গ্রামের নজির মিয়ার বড় ভাই ৫ সন্তানের জনক কৃষক সমসু মিয়াকে গ্রামের একটি খাল লিজ গ্রহন নিয়ে বিরোধের জেরধরে একই গ্রামের মৃত আলতা মিয়ার পুত্র জুবেদ মিয়া, মৃত ইন্তাজ মিয়ার পুত্র আব্দুল মালিক, কনা দরজির পুত্র ইমদাদুল মিয়া তাদের লোকজন অমানুষিক নির্যাতন করে নির্মমভাবে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে একপর্যায়ে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে সমসু মিয়াকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়৷ এমন খবরে গ্রামের মসজিদের মাইকেও মৃত বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে এখন দুই পায়ে রিং লাগিয়ে লাটি বর দিয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা করে জীবন পার করছেন। এঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানার ২নং একটি মামলা গত জানুয়ারি মাসের ১১তারিখ দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় অভিযুক্ত হাজতবাস শেষে জামিনে এসে বাদীর পরিবারের লোকজনকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানান ভাবে চাপ সৃষ্টি করিতে থাকে৷
এ ব্যাপারে সমছু মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার ছেলে মেয়ে ৫জন, স্ত্রী ও ভাই ভাতিজারা প্রতিনিহতই হুমকির মূখে আছি। সে তার বিএনপির দলীয় প্রভাবকাটিয়ে একের পর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা বলে বেড়াছচ্ছ যে, আমরা দুই ভাইয়ের মধ্যে যেকোন একজনকে হঠাৎ তারা প্রাণে মেরে ফেলবে।
গত (১৮ মে) ২০২৬ ইং তারিখ বিকাল অনুমান সাড়ে ৫টায় আসামীদের বাড়ির সামনে বাদী নজির মিয়ার দেখা হলে আসামীগণ ও একই গ্রামের আতাউর রহমান হুমকি দিয়ে বলেন, দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে হবে অথবা আপোষের প্রস্তাব দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়৷ অন্যতায় বাদী ও তার পরিবারকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন প্রভাবশালীরা৷ অবশেষে নিরুপায় হয়ে বাদী ও তার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য নবীগঞ্জ থানায় আরো একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে নবীগঞ্জ থানার এএসআই সেলিম আহমেদ তার সঙ্গীয় পোর্স নিয়ে সরেজমিনে ঘটনাস্থল তদন্তকালে বাদী ও আসামীকে তাদের স্থানীয় একটি বাজারের দোকানে আসার জন্য বলেন। বাদী ও তার অসুস্থ ভাই প্রায় পঙ্গু সমসু মিয়াকে হামলার চেষ্টা করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন মামলার আসামী আব্দুল মালিক সহ তার লোকজন৷ এমনকি তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় তারা।
উত্তেজিত পরিস্থিতি সামাল দিতে থানা পুলিশ সেলিম আহমেদের প্রচেষ্টায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান নির্যাতনের শিকার সমসু মিয়া৷ যিনি এই আসামীগণ কর্তৃক নির্মম হামলার কারনে দীর্ঘ ৩ মাস ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এখনো শঙ্কা মুক্ত হননি বলেও জানান তিনি৷ এ ব্যাপারে এ এস আই সেলিম আহমেদ এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা গেলে তো একটু সমস্যা হবেই। কিছু হট্টগোল হয়েছে। তবে, বড় ধরনের কিছু ঘটেনি৷
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল মালিকের সাথে এবিষয়ে কথা হলে তিনি ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বাকি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বাদীকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন৷ কিন্তু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাম এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে৷ যেকোন সময় বড় ধরনের সংর্ঘষের আশংশা করছে সচেতন নাগরিক। প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন অসহায় পরিবারের লোকজন।