সিলেট ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
অ্যারন হার্ডির দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ও নাহিদ রানার অসাধারণ বোলিংয়ে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ২০২৬ সালের পিএসএল শিরোপা জিতেছে পেশোয়ার জালমি। বল হাতে ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে মাত্র ১২৯ রানে গুটিয়ে দেন হার্ডি, আর ব্যাট হাতে ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৬ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। বাংলাদেশ তারকা নাহিদ কৃপণ বোলিংয়ে ২ উইকেট নিয়ে জয়ে সহযোগিতা করেন।
এর মাধ্যমে জালমি একাধিকবার শিরোপা জয়ী তৃতীয় দল হিসেবে নিজেদের নাম লেখাল। এর আগে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ও লাহোর কালান্দার্স একাধিকবার শিরোপা জিতেছে। জালমির সর্বশেষ শিরোপা ছিল ২০১৭ সালে।
মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচ হেরে যাওয়ার পরও ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে ওঠা কিংসমেনদের যাত্রা ছিল অবিশ্বাস্য। শেষ আট ম্যাচের মধ্যে সাতটিতে জিতে তারা ফাইনালে পৌঁছায়। তবে শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ব্যাটিং ধস তাদের স্বপ্ন ভেঙে দেয়, এবং তারা ফাইনালে প্রথম ইনিংসে সর্বনিম্ন রান সংগ্রহ করে।
সবুজাভ উইকেট দেখে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন বাবর আজম। তবে পিচের চেয়ে বেশি নিজেদের ভুলেই একের পর এক উইকেট হারায় কিংসমেন। মাঝের সারির ব্যাটসম্যানরা ভেঙে পড়ে, মাত্র আট বলে দুই রানে চার উইকেট হারিয়ে বড় ধস নামে, যার মধ্যে দুটি ছিল রান আউট।
একসময় ২ উইকেটে ৬৯ রানে স্বস্তিতে ছিল কিংসমেন। কিন্তু দ্রুতই পরিস্থিতি বদলে যায়। সুফিয়ান মুকিম এলবিডব্লিউ করে ফেরান উসমান খানকে। এরপর সাইম আইয়ুব ও ইরফান খানের ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন ইরফান। পরের বলেই গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ক্যাচ আউট হন। পরে মাইকেল ব্রেসওয়েলের সরাসরি থ্রোতে আউট হন কুশল পেরেরা, যদিও এই আউট নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়।
আইয়ুবের ব্যাট থেকেই আসে দলের একমাত্র লড়াই। মৌসুমে নিজের প্রথম অর্ধশতক তুলে নিয়ে ৫০ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। মার্নাস লাবুশেনের সঙ্গে ৩৫ রানের জুটি গড়ে কিছুটা আশা জাগালেও সেটি বেশিক্ষণ টেকেনি।
ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটি ছিল আইয়ুব ও হুনাইন শাহর মধ্যে, যা স্থায়ী হয় ২৪ বল। শেষদিকে হার্ডি আবারও আঘাত হেনে আইয়ুবসহ দুটি উইকেট তুলে নিয়ে নিজের প্রথম চার উইকেটের কৃতিত্ব অর্জন করেন। নাহিদ গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতোর বড় তারকাকে শূন্য রানে ফেরান। এরপর হুনাইন শাহকেও বোল্ড করেন। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দেন, ছিল এক মেডেনও।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে জালমি। প্রথম ওভারেই বাবর আজম ও মোহাম্মদ হারিসকে আউট করে স্বপ্নের সূচনা করেন মোহাম্মদ আলি। পরে হুনাইন শাহ ও আকিফ জাভেদের আঘাতে ৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে জালমি।
সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ান হার্ডি ও আব্দুল সামাদ। দুজনের ৮৫ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সামাদ ৩৪ বলে ৪৮ রান করেন এবং শেষ দিকে দ্রুত রান তুলে দলকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে যান।
শেষ পর্যন্ত পরের ওভারেই জয় নিশ্চিত হয়, আর শিরোপা জিতে উল্লাসে মাতে পেশোয়ার জালমি।