সিলেট ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেক্সঃঃ
আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয় থাকায় বাড়িছাড়া রয়েছেন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো: শাকিল মিয়া। তাকে গ্রেপ্তারে প্রতিনিয়ত তার এওলাতৈল গ্রামের নিজ বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তার উপর দায়েরকৃত একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওয়ারেন্ট জারির পর থেকে যুবলীগ নেতা শাহ মো. শাকিল মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার এওলাতৈল গ্রামে তার নিজ বাড়িতেও একাধিকবার পুলিশ অভিযান চালিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে অভিযানের সময় শাহ মো. শাকিল মিয়াকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
পুলিশের দাবি, গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো: শাকিল মিয়া দুটি মামলায় ওয়ারেন্ট ভূক্ত আসামী। পুলিশের কাজ ওয়ারেন্ট পরোয়ানা ভূক্ত আসামীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।
তবে, শাহ মো: শাকিল মিয়ার পরিবার বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, শাহ মো. শাকিল মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশি হয়রানীর মুখে পড়েছেন তারা। কিছু দিন পর পর বাড়িতে এসে পুলিশ তাদের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বাড়িতে এসে তল্লাশি করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিব্রতকর অবস্থায় দিন পার করছেন তারা। তিনি বলেন, গত ১ বছর ধরে মাসে কয়েকবার শাহ মো. শাকিল মিয়ার খোঁজে বাড়িতে আসছে পুলিশ।
এদিকে, পুলিশি হয়রানীর প্রতিবাদ জানিয়েছেন গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন যুবলীগ। ১০ আগস্ট ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. হেলাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শাহ মো. শাকিল মিয়ার পরিবারকে পুলিশি হয়রানীর প্রতিবাদ জানান ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওসমানীনগর থানার সাবেক অফিসার ইনচার্য ওসি মোস্তাফিজুর রহমান হত্যা মামলা, ৫৬৩/২০১৯ এবং বিএনপি নেত্রী বর্তমান সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী লুনার গাড়ি ভাংচুর মামলায় ওয়ারেন্ট ভূক্ত আসামী শাহ মো: শাকিল মিয়া দীর্ঘদিন থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। গত বছর শাহ মো. শাকিল মিয়াকে অভিযুক্ত করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সি আর ৩০২/২৪ ও বিশেষ ক্ষমতা ৫৬/ ২৫ দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিশেষ ক্ষমতা ৫৬/২৫ মুলে বিচারাধীন।
অভিযোগ উঠেছে, একাধিকবারশাহ মো. শাকিল মিয়ার খোঁজে পুলিশ তাদের বাড়িতে আসে। গভীর রাতে বাড়িতে পুলিশি তল্লাশির নামে চলে ভাংচুর লোটপাট। পুলিশের সাথে একাধিক স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযানে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ শাহ মো. শাকিল মিয়ার পরিবারের।
এর আগে শাহ মো. শাকিল মিয়া আত্মগোপনে থাকায় গত বছর তার বড় ভাই শাহ আলমগীরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, শাকিলের সন্ধান দিতে না পারায় থানায় একদিন আটকের পর তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করে তাকে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এতে নিরপরাধ হয়েও জেল খেটেছেন তিনি। পরে আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পান আলমগীর।
ভূক্তভূগী শাহ আলমগীর বলেন, আমার ভাইকে না পেয়ে আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়মিত মামলার মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। আমি নিরপরাধ হয়েওে দীর্ঘদিন জেল খাটতে হয়েছে। আমার ভাই শাহ মো: শাকিল মিয়া কোথায় আছে তা আমরাও জানি না। তাহলে কেন আমাদের হয়রানী করা হচ্ছে? এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।
শাহ মো: শাকিল মিয়া বৃদ্ধা মা জায়েদা খাতুন বলেন,আমার ছেলেকে দেখিনা অনেক দিন। কোথায় আছে তাও জানি না। আমার ছেলেকে বাড়িতে না পেয়ে আমাদের বাড়ি ও গাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করেছে একদল সন্ত্রাসীরা। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে এসে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করছে। আমরা আইনী সহযোগীতাও পাচ্ছি না উল্টো আমার নিরপরাধ আরেক ছেলে জেল খেটেছে।
ওয়ারেন্ট ভূক্ত যুবলীগ নেতা শাহ-মো. শাকিল মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওসমানীনগর থানা পুলিশের কর্মকর্তা।
ওসমানীনগর থানার ওসি(তদন্ত) এস এম মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, শাহ মো: শাকিল মিয়া দীর্ঘদিন থেকে পলাতক। সে দুইটা মামলার ওয়ারেন্ট পরোয়ানা ভূক্ত আসামী। তাকে গ্রেপ্তার করা পুলিশের পেশাগত দ্বায়িত্ব। তার বাড়িতে পুলিশী হয়রানীর বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান তিনি।