কোরবানির মাংস নিয়ে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের দুয়ারে বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবকরা

প্রকাশিত: ৬:০৫ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০২৬

লন্ডন বাংলা ডেস্কঃঃ

যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘ ছায়ায় বসবাস করা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ঈদের আনন্দে সামিল করতে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশিরা। প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের উদ্যোগে মিশরে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারগুলোর মধ্যে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে। মানবিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজারো অসহায় মানুষের ঘরে পৌঁছে গেছে ঈদুল আজহার আনন্দের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

 

জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকেই মিশরের রাজধানী কায়রো ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশু সংগ্রহ শুরু করে বাংলাদেশি মানবিক সংগঠনগুলো। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুদান ও দেশ-বিদেশের শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় পরিচালিত এই কার্যক্রমে এ বছর অন্তত ১০টি বাংলাদেশি সংগঠন অংশগ্রহণ করেছে।

 

এ উদ্যোগে অংশ নেওয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে আলহাজ শামসুল হক (অঝঐ) ফাউন্ডেশন, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ল্ড ওয়ান উম্মাহ ফাউন্ডেশন, ইলমুন নাহিয়ান ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ-প্যালেস্টাইন ফ্রেন্ডশিপ, বি.এম. সাবাব ফাউন্ডেশন, আত-তাইয়িব ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, মাই ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এবং হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) সেবা ফাউন্ডেশন। সংগঠনগুলো উট, গরু ও দুম্বা কোরবানি করে মিশরে অবস্থানরত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের মধ্যে মাংস বিতরণ করছে।

 

আলহাজ শামসুল হক (অঝঐ) ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশি প্রবাসী ও মানবিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় সংগৃহীত অর্থে কোরবানির পশু ক্রয় ও জবাই করা হয়েছে। পরে মাংস প্যাকেটজাত করে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মিশরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।”

 

মিশরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মানবিক সংগঠন ‘ইউথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’-এর চেয়ারম্যান মো. হাফিজুল ইসলাম সাকিব বলেন, “গত দুই বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও আমরা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও অর্থনৈতিক সংকটে থাকা অনেক পরিবার ঈদে কোরবানির মাংস পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে বাংলাদেশিদের এই সহায়তা বিশেষ ভূমিকা রাখছে।”

 

মাংস বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবী নাইম হাসান জানান, মিশরে আশ্রয় নেওয়া অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার অত্যন্ত সীমিত আয় ও নানা সংকটের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছে। তাদের জন্য এই সহায়তা শুধু খাদ্য নয়, বরং মানবিক সংহতি ও ভালোবাসারও একটি বার্তা বহন করছে।

 

আরেক স্বেচ্ছাসেবী হুজাইফা খান বলেন, “শুধু ঈদকে কেন্দ্র করেই নয়, ভবিষ্যতেও ফিলিস্তিনি শরণার্থী ও যুদ্ধাহত পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য, চিকিৎসা এবং অন্যান্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।”

 

সহায়তা গ্রহণকারী ফিলিস্তিনি শরণার্থীরাও বাংলাদেশি জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষায়, সংকটের এই সময়ে হাজার মাইল দূরের একটি দেশের মানুষের সহমর্মিতা ও ভালোবাসা তাদের নতুন করে আশাবাদী করেছে। তারা বাংলাদেশের জনগণের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানান।

 

মানবিক এই উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করেছে যে, ভৌগোলিক দূরত্ব কিংবা জাতিগত বিভাজন মানবতার পথ রোধ করতে পারে না। দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে সংস্কৃতি বাংলাদেশ বহন করে, তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে মিশরে আশ্রিত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য এই কোরবানি কার্যক্রম।এই প্রতিবেদনের জন্য কয়েকটি আকর্ষণীয় শিরোনামও হতে পারে

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930