স্পেনে কমিউনিটিতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা: ৩২ বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০২০

স্পেনে কমিউনিটিতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা: ৩২ বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রতিনিধি/স্পেনঃঃ

প্রাণঘাতী করোনায় বিধ্বস্ত স্পেনে প্রায় ত্রিশ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি ভালো নেই। দেশটিতে প্রায় ৭ কোটি মানুষ গৃহবন্দি। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রবাসীরাও।বাইরে বেরুলেই জেল-জরিমানার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা থাকা-খাওয়ার ব্যয় নির্বাহ নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।এরই মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।অর্থনৈতিকভাবে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দেশ স্পেন এখন কার্যত মৃত্যুপুরী। পর্যটকশূন্য পুরো দেশ। কোথাও নেই কোলাহল। ফার্মেসি ও সুপার মার্কেট ছাড়া সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ।পুরো দেশ ‘রেড জোন’-এর মধ্যে রয়েছে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে।গত রবিবার সরকার সবকিছু বন্ধের সময় বাড়িয়েছে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। দেশের পুরো কাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম। অর্থনৈতিক কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। এক অনিশ্চিত সংকটের দিকে এগোচ্ছে স্পেন। সবার মতো স্পেন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও রয়েছেন আতঙ্কের মধ্যে।পরিসংখ্যান বলছে দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মধ্যে ১০শতাংশই স্বাস্থ্যকর্মী।

 

 

রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক ফেরনান্দো সাইমন বলেছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৩হাজার ৪৭৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন।স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্কটের পাশাপাশি করোনাভাইরাস এর রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালগুলোতেও রোগীদের জায়গা করে দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মাদ্রিদের হাসপাতালগুলোতে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আইসিইউতে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। যদিও সকল বেসরকারী হাসপাতালগুলোকে সরকারের অধীনে নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে স্পেনের সবচেয়ে বড় সম্মেলনকেন্দ্র ‘ফেরিয়া দে মাদ্রিদ’এর ইফেমা-কে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় অস্থায়ী হাসপাতাল করে করোনাভাইরাস রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। স্পেনে মারাত্মক স্বাস্থ্যকর্মী সঙ্কটের ফলে সরকার মেডিকেল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী এমনকি অবসরপ্রাপ্ত চিকিতসকদেরও নিয়োগ দিচ্ছে।

 

 

 

দেশটিতে চলমান ১৫ দিনের জরুরি অবস্থা আরো ১৫ দিন বৃদ্ধি করা হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন। কিন্তু কোন কিছুতেই যেন হার মানছে না করোনা ভাইরাস। এ মহামারি থেকে কখন মিলবে মুক্তি? এমন প্রশ্ন আর চলমান হতাশার মধ্যেই দিন পার করতে হচ্ছে সবাইকে।প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনেকটা স্পেনের সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছেন। নব্বই দশক থেকে স্পেনে বাংলাদেশি প্রবাসীদের পদচারণা শুরু। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যায় যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে স্পেনের বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে সখ্য। প্রবাসীরা স্পেনকে ‘সেকেন্ড হোম’ হিসেবে বিবেচনা করেন। তাদের রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশ যেমন লাভবান হয়, তেমনি একজন প্রবাসীর উপার্জনের মাধ্যমে নিজ পরিবার, আত্মীয়স্বজনসহ অনেকেই উপকৃত হয়ে থাকেন।স্পেনে মার্চ/এপ্রিলে সাধারণত গ্রীষ্ফ্মকাল শুরু হয়।ব্যবসা-বাণিজ্য চলে পুরোদমে। কর্মসংস্থানও বাড়ে। তবে এবার করোনার ছোবলে স্পেনের ভিন্ন চিত্র। কার্যত অবরুদ্ধ দেশ। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এতে আতঙ্কিত। করোনার হানা সবকিছু ওলট-পালট করে দিয়েছে।কর্মজীবী বাংলাদেশিরা নিজের মাসিক খরচের টাকা হাতে রেখে সাধারণত মাসের প্রথম দিকেই বাকি অর্থ দেশে পাঠান।চলতি মাসেও একই অবস্থা ছিল। তবে দেশব্যাপী রেড জোন ঘোষণা এবং সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন সব প্রবাসী।সবাই এখন গৃহবন্দি। দোকান বন্ধ, ব্যবসা নেই। তবে বাড়ি ভাড়া, দোকান ভাড়া দিতেই হবে। সঙ্গে রয়েছে পারিবারিক ব্যয়, ব্যক্তিগত খরচ ও দেশে অর্থ পাঠানোর চিন্তা। সব মিলিয়ে উদ্বিগ্ন স্পেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

Spread the love

আর্কাইভ

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31