তাহিরপুরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানছে না কর্মকর্তা কর্মচারীগন

প্রকাশিত: ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২০

তাহিরপুরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানছে না কর্মকর্তা কর্মচারীগন

জেলা প্রতিনিধিঃঃ
সমগ্র বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার জন্য মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকলেও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় তার ব্যতিক্রম। কর্মকর্তারা জরুরী প্রয়োজনে জনগণের পাশে থাকার পরিবর্তে নিজের ঘরকেই তারা বেছে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। জনগণের এই দুর্যোগময় মুহূর্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ছাড়া আর কাউকে অফিস ও এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন প্রতন্ত এলাকায় নেই দুর্যোগময় মুহূর্তে প্রচার প্রচারন না। ফলে উপজেলার সচেতন মহলের মাঝে চরম ক্ষোব বিরাজ করছে।

 

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি ছাড়া আর কেউ নেই রবিবার ও সোমবার তাহিরপুর উপজেলা পরিষদে গিয়ে এমনি দৃশ্য দেখাযায়। উপজেলার প্রতিটি কায্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলছে,সেই কারো পদচারনা ফলে চারপাশ সুনশান নিরবতা বিরাজ করছে। আছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। অথচ জনগণের এই সঙ্কটের সময় মুহূর্তে সবাইকে উপজেলা প্রশাসনকে সহায়তার জন্য নির্দেশনা ছিল। কিন্তু সবার অফিসের দরজায় তালা ঝুলিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। ৪এপ্রিল পর্যন্ত সকল সরকারী প্রতিষ্টান বন্ধ করার পর থেকেই যে যার মত অফিন ছেড়ে বাড়িতেই করছেন বলে জানাযায়।

 

তাই উপজেলার আশ পাশের বিশেষ কয়েকটি এলাকা ছাড়া করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচারণা ও প্রশাসনের তদারকি করলেও উপজেলার প্রতন্ত্য এলাকায় নেই কনোর ব্যবস্থা। ফলে গ্রামের মানুষ সকাল-বিকেলে দোকানপাট,হাটেল ও রেস্তোরায় গনজমায়েত হয়ে আড্ডা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ঢাকায় অবস্থান করে বিভিন্ন প্রতিষ্টানে চাকরী করা লোকজন গ্রামে আসায় গ্রামের মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল আশঙ্কা করছেন।

 

জানা যায়, নোভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলায় কমিউনিটি সেন্টার,রেস্টুরেন্ট,হাট,গণজমায়েত,কোচিং সেন্টার রাজনৈতিক,সামাজিক,ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সভা-সমাবেশ,ক্লাব,বিনোদন পার্ক বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করে একাধিকবার মাইকিং করেছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর মাঠে এখন প্রতিদিনেই সেনাবাহিনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ব্যাপক ভাবে প্রচার চালাচ্ছে।

 

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান,টেস্ট করা হচ্ছে একমাত্র ঢাকায়,শুনলাম সিলেট ও চট্টগ্রামেও এখন থেকে শুরু করবে,আর বলা হচ্ছে সারা দেশে একজনও নতুন আক্রান্ত কেউ নাই,সারা দেশে তো টেস্ট করারই ব্যবস্থা করেননি,১৪দিন পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি জানতেই পারেন না যে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কি না। নাকি বড় বিপদে পরছি আমরা। আর এই অবস্থায় সকল কর্মকর্তা অফিসে তালা ঝুলিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে অবস্থান করছেন। তারা সরকারী নির্দেশনা মানছেন না।

 

উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন থেকে উপজেলায় আসা রাকিবুল ইসলামসহ স্থানীয় এলাকাবাসী জানান,উপজেলার প্রতিটি কক্ষেই তালা ঝুলছে। সবাই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছেন। শুধু ইউএনও সাহেবের অফিসটাই খুলা। এখনই সময় সবার মাঝে করোনা ভাইরাসের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিও সময় আর এখনেই নেই কর্মকর্তাগন।

 

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি জানান,সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী কর্মরত সরকারি কর্মকর্তারা স্টেশনে থাকার কথা থাকলে সবাই অনুপস্থিত রয়েছেন,এটা খুবেই দুঃখজনক। সবাই থাকলে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সম্মেলিত ভাবে প্রচার প্রচারনা চালানো সহজ হত।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

July 2024
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031