সিলেট ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫
আন্তজাতিক ডেস্ক ::
দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসা পেতে এক লাখ ডলার ফি নির্ধারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি রোববার থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এই ঘোষণার পর ভারত ও চীনের হাজারো এইচ-১বি ভিসাধারী আতঙ্কে ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করে তড়িঘড়ি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলো তাদের কর্মীদের স্থানীয় সময় রোববার ভোররাত ১২টা ১ মিনিটের আগেই দেশে ফিরতে জরুরি বার্তা পাঠিয়েছে। পাশাপাশি আপাতত বিদেশে না যেতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যদিও পরে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে, এ নিয়ম শুধু নতুন আবেদনকারীদের জন্য। তবে আগের দিন ট্রাম্পের ঘোষণায় সিলিকন ভ্যালিজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ছুটি কাটিয়ে ফিরতে না পারার ভয়ে মাঝপথেই যাত্রা বাতিল করেন। সানফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে কয়েকজন ভারতীয় যাত্রী বিমান থেকে নেমে আসেন, যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চীনা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও অনেকে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। কেউ বলছেন, কভিড-১৯ মহামারির সময় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আগে যেমন তাড়াহুড়ো করে ফিরতে হয়েছিল, এবারও সেই আতঙ্ক ফিরে এসেছে। এক নারী যাত্রী ফ্রান্স ভ্রমণ ফ্লাইট ছেড়ে দেন। কারণ, কোম্পানির আইনজীবীরা বিদেশে থাকা কর্মীদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, গুগল, গোল্ডম্যান স্যাকসসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য ভ্রমণ নির্দেশনা দিয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিটি নতুন ভিসার জন্য এক লাখ ডলার ফি দিতে হবে। যদিও পরে হোয়াইট হাউস বলেছে, এটি একবারের ফি, প্রতিবছর নয়। গত বছর ভারতীয়রা ৭১ শতাংশ ও চীনারা ১২ শতাংশ এইচ-১বি ভিসা পেয়েছিলেন। ফলে এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে এশীয় কর্মীদের ওপর। নর্থ ক্যারোলিনায় কর্মরত রোহন সিং বলেন, ‘আমরা জানি না, সামনে কী অপেক্ষা করছে। তাই সবাই আতঙ্কে রয়েছি।’ একজন প্রকৌশলী মন্তব্য করেন, সবকিছু মুহূর্তেই বদলে যাচ্ছে; এ যেন বাস্তবের ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’।
পরে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট। গত শনিবার এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ এক পোস্টে তিনি লেখেন, এখন যাদের এইচ-১বি ভিসা আছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ওই এক লাখ ডলার ফি দিতে হবে না। এটি কেবল নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর এটি কোনো বার্ষিক ফি নয়। এটি কেবল এককালীন ফি, যা শুধু প্রথম আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।’
এর আগে শুক্রবার বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, নতুন এক লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসার ফি প্রতিবছর দিতে হবে। তবে তিনি যোগ করেন, এ নিয়ে বিস্তারিত এখনও বিবেচনাধীন।
হোয়াইট হাউস বলেছে, এই ফি আরোপ করা হচ্ছে মার্কিন কর্মীদের জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে। তাদের মতে, মার্কিন কর্মীদের জায়গায় ‘কম মজুরি দিয়ে বিদেশি শ্রমিক’ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা প্রদান করা হচ্ছে।
এতদিন পর্যন্ত এ ভিসার প্রশাসনিক ফি ছিল গড়ে দেড় হাজার ডলার। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন অর্থবছরে এইচ-১বি ভিসার আবেদন সংখ্যা নেমে এসেছে তিন লাখ ৫৯ হাজারে, যা চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।