সিলেট |
প্রকাশিত: 3:23 PM, October 29, 2025
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
সিলেট মহানগরীতে ব্যাটারি চালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনভর বিক্ষোভ করে রিকশা চালক ও শ্রমিকরা। বিকেলে তারা চারদিনের সময় বেঁধে অবরোধ প্রত্যাহার করলেও এরই মধ্যে শহরে শুরু হয়েছে রিকশা বিক্রি ও হাতবদলের ধারা।
তথ্য মতে, নগরীতে প্রায় ৩০ হাজার ব্যাটারি রিকশা চলাচল করত। এখন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় রিকশা মালিকদের অনেকে যানবাহনগুলো বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে ব্যাটারি রিকশার দাম অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এমনকি উপশহর এলাকায় একটি রিকশা পুড়িয়ে ফেলেছেন ক্ষুব্ধ মালিক। আবার অনেক মালিক তাদের রিকশা নিয়ে যাচ্ছেন মফস্বল এলাকাতে।
সুবিদবাজারে কথা হয় এক ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকের সঙ্গে। তিনি জানান, আগে তিনি রিকশাটি ভাড়ায় চালাতেন, এখন নিজে কিনে নিয়েছেন। “আমি ৬০ হাজার টাকায় রিকশাটি কিনেছি, কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করছি,”—বলেন তিনি।
মিরাবাজার এলাকায় আরেক চালক জানান, তার বাড়ি কোম্পানীগঞ্জে। নিষেধাজ্ঞার পর তিনি চালানো রিকশাটি কিনে নিয়েছেন এবং কয়েকদিনের মধ্যে নিজ এলাকায় চলে যাবেন। “ধার দেনা আর এনজিও থেকে কিছু ঋণ নিয়ে রিকশাটি কিনেছি,”—বলেন তিনি।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যাটারি রিকশার দাম সাধারণত ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে। এর মধ্যে ব্যাটারির দাম প্রায় ২৫ হাজার ও মোটরের দাম ২০ হাজার টাকা। প্যাডেল চালিত রিকশাকে ব্যাটারি রিকশায় রূপান্তর করলে সেটি বিক্রি হতো প্রায় ১ লাখ টাকায়। এখন সেই রিকশাগুলোর দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে।
পুলিশের ঘোষণার পর এই দাম পতন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) জানিয়েছে, অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও চার্জিং পয়েন্টে অনিয়ম রোধে যেকোনো সময় ব্যাটারি রিকশার দোকানে অভিযান চালানো হবে। এই ঘোষণার পর থেকে অনেক মালিক দ্রুত রিকশা বিক্রি করছেন, ফলে দাম কমে গেছে।
এদিকে, বুধবারের আন্দোলনে শ্রমিকরা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও আটক যান ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর সঙ্গে শ্রমিক প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর তারা রোববার পর্যন্ত সময় বেঁধে অবরোধ স্থগিত করেন।
শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, ব্যাটারি চালিত রিকশা নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন এবং পরিবেশবান্ধব বাহন। তারা চান, বিআরটিএর মাধ্যমে নীতিমালা প্রণয়ন করে এসব যানকে বৈধভাবে পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হোক।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সিলেট মহানগরীতে ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এতে বহু রিকশা জব্দ ও একাধিক চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।