সিলেট ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০২৫
আন্তজাতিক ডেস্ক ::
ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ রক্তাক্ত পুলিশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, অভিযানে মারা যাওয়া ১৩২ জনের মধ্যে বেশিরভাগই কমান্ডো ভার্মেলো গ্যাং-এর সন্দেহভাজন। নিহতদের মধ্যে চার জন পুলিশ অফিসারও রয়েছেন।
বিবিসি, আল-জাজিরা ও এএফপি সূত্রে খবর, রিও দে জেনেইরোর পেনহা কমপ্লেক্স এবং আলেমাও কমপ্লেক্স এলাকার অভিযানে আড়াই হাজার পুলিশ কর্মকর্তা অংশ নেন। তবে এই অভিযানের বিষয়ে কয়েকজন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা পুলিশকে সরাসরি হত্যার অভিযোগ করেছেন। নিহতদের মৃতদেহ রাস্তার পাশে রাখা হলে শোকাহতরা সেখানে জড়ো হন।
একজন নারী পেনহা কমপ্লেক্স থেকে এএফপি নিউজ এজেন্সিকে বলেন, ‘রাজ্য হত্যাযজ্ঞ করতে এসেছে, এটি কোনো পুলিশি অভিযান ছিল না। তারা সরাসরি মানুষ হত্যার জন্য এসেছে।’
৩৬ বছর বয়সী বাসিন্দা ও সক্রিয়তাবাদী রাউল সান্তিয়াগো বলেন, ‘অনেক মানুষকে মাথার পেছন এবং পিঠে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এটা সাধারণ জননিরাপত্তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায় না।’
ব্রাজিলের আইনমন্ত্রী রিকর্ডো লেওয়ানডোস্কি জানান, প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা হত্যার সংখ্যায় হতবাক এবং অবাক হয়েছেন। কারণ এমন একটি অভিযান ফেডারেল সরকারের অনুমতি ছাড়াই চালানো হয়েছে।
স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে, মৃতদেহের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ৫০ থেকে ৭০ জনের মধ্যে অনুমান করা হয়েছিল। অনেক মৃতদেহ পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে পুলিশের সঙ্গে গ্যাংদের সংঘর্ষ বেশি হয়েছিল।
গভর্নর কাস্ত্রো সাংবাদিকদের বলেন, ‘সত্যি বলতে, সংঘাতটি গড়ে উঠা এলাকায় হয়নি, সবই বনাঞ্চলে ছিল। তাই কেউ সাধারণভাবে বনাঞ্চলে ঘুরছিল বলে আমি মনে করি না। তাই আমরা সহজেই তাদের শ্রেণীবদ্ধ করতে পারি।’
এই পুলিশি অভিযান রিও শহরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত কয়েক দশক ধরে কর্তৃপক্ষ শহরের দরিদ্র এলাকাগুলোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।