ক্ষোভে ফুঁসছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত: 3:18 PM, November 7, 2025

ক্ষোভে ফুঁসছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা

 লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

ভোটারদের অন্ধকারে রেখে গঠন করা হয়েছিল সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির কমিটি। পরিচালক আর প্রেসিডিয়ামের পদ ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় অনুসারীরা। রাজপথে মতের ভিন্নতা থাকলেও যাদুকরী এক ঐক্য হয়েছিল চেম্বারের গোপন কমিটিতে।

 

 

২০২৪ সালের ২১ জানুয়ারি পরিচালনা পর্ষদ গঠনের পর ব্যবসায়ীরা জানতে পারেন তাদের ভোট ছাড়াই চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। একই বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে ‘গোপন কমিটি’ বাতিল করে নিয়োগ দেওয়া হয় প্রশাসক। ঘোষণা করা হয় নির্বাচনী তফশিল। কিন্তু একটি পক্ষের গোপন আবেদনের প্রেক্ষিতে ভোটের ৫ দিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রণালয় থেকে স্থগিত করা হয় নির্বাচন।

 

 

এরপর আদালতের নির্দেশে স্থগিতাদেশ বাতিল করা হলেও ভোটের দেখা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। ভোটের দাবিতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্যানেল আন্দোলনে নেমেছেন। নির্বাচন নিয়ে টালবাহনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ ব্যবসায়ীরাও।

 

 

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে বাণিজ্যমন্ত্রণালয় চেম্বারের ‘আঁতাতের কমিটি’ বাতিল করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর থেকে নির্বাচন নিয়ে আশায় বুক বাঁধেন চেম্বারের সদস্য ব্যবসায়ীরা। প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেন।

 

 

ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী গত ১ নভেম্বর ভোটগ্রহণের কথা ছিল। নির্বাচনে অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট দুই ক্যাটাগরিতে পরিচালকের ১৮টি পদে দুই প্যানেল থেকে ৩৬ জন এবং প্রেসিডিয়ামের ৩টি পদে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন। নির্বাচনকে ঘিরে সিলেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা দেখা দেয়।

 

 

এদিকে, নির্বাচনী আমেজ যখন তুঙ্গে তখন তালিকায় ভুয়া ভোটার রয়েছে এমন অভিযোগ এনে গোপনে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন সাবেক পরিচালক আমিরুজ্জামান দুলুসহ কয়েকজন। ওই অভিযোগ জেলা প্রশাসক বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভোটগ্রহণের ৫ দিন আগে ২৬ অক্টোবর মন্ত্রণালয় থেকে ভোট স্থগিত করে ভোটার তালিকা সংশোধন করে পুনঃতফশিলের নির্দেশ দেন। বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্যানেলের প্রার্থী, তাদের সমর্থক ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা। পরে উভয় প্যানেলের রিটের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের আদেশ স্থগিত করেন।

 

 

ফলে বাধা কাটলেও বাণিজ্যমন্ত্রণালয় থেকে ফের ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা না দেওয়ায় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। শিগগির ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণার দাবিতে গতকাল বুধবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ’ চেম্বার ভবনের নিচে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। আর ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী ফোরাম’ হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

 

 

নির্বাচন নিয়ে জটিলতা প্রসঙ্গে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদা পারভিন জানান, এখনো বাণিজ্যমন্ত্রণালয় থেকে কোন নির্দেশনা আসেনি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না পেলে কবে নাগাদ ভোট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে তা বলা যাচ্ছে না।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031