সিলেট ১৩ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০২৫
আন্তজাতিক ডেস্ক ::
দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে চলা এক ঐতিহ্যের অবসান ঘটাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্যয় সাশ্রয় ও ডিজিটাল লেনদেনের যুগে তাল মেলাতে দেশটি এক সেন্ট মূল্যের মুদ্রা ‘পেনি’ উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে উৎপাদন বন্ধ হলেও চলমান পেনি মুদ্রাগুলো কার্যকর থাকবে। গত বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার ফিলাডেলফিয়া মিন্টে শেষবারের মতো এ মুদ্রা তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে ১৭৯৩ সাল থেকে টানা ২৩০ বছরের বেশি সময় ধরে চলা পেনি উৎপাদনের ইতি ঘটবে।
দেশটির সরকারের দাবি, এ পদক্ষেপে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বলেন, আমাদের দেশের বাজেট থেকে অপচয় দূর করতে হবে। এমনকি তা যদি এক পেনিও হয়।
বর্তমানে তামা-প্লেটেড জিঙ্ক দিয়ে তৈরি প্রতিটি পেনি তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ৪ সেন্ট, যা মূল্যমানের চার গুণ এবং এক দশক আগের তুলনায় দ্বিগুণ। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, উৎপাদন বন্ধের ফলে প্রতি বছর প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে।
ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারেও এক সেন্টের মুদ্রার ব্যবহার দ্রুত কমে যাচ্ছে। ১৭৯৩ সালে চালু হওয়া এই কয়েন এখন বাজারে এত বেশি পরিমাণে প্রচলিত আছে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন, যা বাস্তব চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। এমনকি দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ কয়েন ব্যবহারহীন অবস্থায় ঘরে জমে থাকে, গড়ে প্রতি পরিবারে এর মূল্য ৬০ থেকে ৯০ ডলার।
তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দাম সমন্বয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক সেন্ট বাদ পড়ায় পণ্যের দাম পূর্ণ সংখ্যায় রাউন্ড করা হলে ভোক্তাদের বার্ষিক অতিরিক্ত খরচ পড়তে পারে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার, এমনটি জানায় রিচমন্ড ফেডারেল রিজার্ভের একটি গবেষণা।
বিশ্বের আরও অনেক দেশ এরই মধ্যে স্বল্পমূল্যের মুদ্রা বাদ দিয়েছে। কানাডা শেষবার এক সেন্টের কয়েন তৈরি করে ২০১২ সালে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ১৯৯০-এর দশকে এক ও দুই সেন্টের কয়েন বাতিল করে এবং নিউজিল্যান্ড ২০০৬ সালে পাঁচ সেন্টের কয়েন তৈরিও বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাজ্যও ২০২৪ সালে ১ ও ২ পেনি কয়েন তৈরি বন্ধ করেছে।
এদিকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের নজর পড়েছে পাঁচ সেন্ট মূল্যের ‘নিকেল’ মুদ্রার দিকে। এটি তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ১৪ সেন্ট অর্থাৎ মূল্যমানের তিন গুণের বেশি। রিচমন্ড ফেডের হিসাবে, নিকেল উৎপাদনও বন্ধ করা হলে ভোক্তাদের বার্ষিক অতিরিক্ত খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ডলার।