সিলেট ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:০৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটের দুইটি আসনে (সিলেট-৫ ও সিলেট-৬) বিএনপি ও জমিয়তে ইসলাম বাংলাদেশের আসনভিত্তিক সমঝোতা এখন চরম টানাপোড়েনের মুখে। একদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি নেতা মো. মামুনুর রশীদকে বহিষ্কার করা হলেও সেই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয় জোটসঙ্গী জমিয়ত। অন্যদিকে, সিলেট-৬ আসনে বিএনপিকে ছেড়ে দেওয়ার পরও জমিয়তের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম। ফলে শেষ মুহূর্তে নির্বাচনী মাঠে কে থাকছেন আর কে সরে দাঁড়াচ্ছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি ও জমিয়ত জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিলেট-৫ আসনে জমিয়তের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুককে সমর্থন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত নেতা মো. মামুনুর রশীদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ান। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে এই বহিষ্কারে সন্তুষ্ট নয় জমিয়তে ইসলাম বাংলাদেশ।
এদিকে সিলেট-৬ আসনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার কারণে এই আসনটি ছেড়ে দেয় জমিয়ত। এখানে বিএনপি একক প্রার্থী ঘোষণা করে গত ৩ নভেম্বর। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে জমিয়তের নেতা হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রাথমিক বাছাইয়ে ভোটারদের স্বাক্ষরের শর্ত পূরণ না হওয়ায় সিলেট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারোয়ার আলম তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। তবে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। এতে করে সিলেট-৬ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, মো. মামুনুর রশীদ নির্বাচনের মাঠে থাকলে সিলেট-৫ আসনে জোটের বড় একটি ভোটব্যাংক বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। সেই ভোটগুলো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মামুনুর রশীদের ব্যালটে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যা জোট প্রার্থীর জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। এদিকে, সিলেট-৬ আসনেও বিএনপির বড় একটি ভোটব্যাংক বিভক্ত হয়ে ভোটগুলো বিদ্রোহী প্রার্থী হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলামের ব্যালটে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যা বিএনপি প্রার্থীর জন্য বড় একটি ধাক্কার কারণ হতে পারে।
সিলেটের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনের ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আলোচনা রয়েছে- যদি সিলেট-৫ আসন থেকে সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মো. মামুনুর রশীদ শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে দলীয় আন্তরিকতা ও সাংগঠনিক স্বার্থে সিলেট-৬ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলামও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জমিয়তের নেতা হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন।
গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘জয়ের দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকতে পারেন জামায়াতের প্রার্থী সেলিম উদ্দিন। আর জমিয়তে ইসলাম বাংলাদেশের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম তৃতীয় অবস্থানে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সমঝোতা ও প্রার্থী প্রত্যাহার পরিস্থিতি ভোটের মাঠের পুরো হিসাব বদলে দিতে পারে।
সিলেট-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি, সেই ঋণ আমি শোধ করতে চাই। গত এক বছর ধরে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করছি। জোটের সিদ্ধান্তে আসন না পেলেও আমি পিছু হটবো না। মানুষের দাবির মুখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো, ইনশা-আল্লাহ।’
এদিকে জমিয়তের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুল মালিক চৌধুরী বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, সে বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারে না। দলের হাই কমান্ড যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটিই চূড়ান্ত। বিএনপির প্রার্থীদের আসনে জমিয়তের নেতাকর্মীরা সমর্থন করবেন- এটাই নির্দেশনা। কেউ সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’