বৈঠক হলেও কর্মবিরতি চলমান, পর্যবেক্ষণ করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

প্রকাশিত: ৬:০৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২৬

বৈঠক হলেও কর্মবিরতি চলমান, পর্যবেক্ষণ করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তাসহ ৮ দফা দাবি দিয়ে কর্মবিরতি করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে রোগির স্বজন দ্বারা এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক হেনস্তার প্রতিবাদে তারা এই কর্মবিরতির ডাক দেন। দু’দিন ধরে চলা কর্মবিরতিতে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা। ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসপাতালে ভর্তি রোগিরা।

 

সবশেষ রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে হাসপাতাল কতৃর্পক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসকের নিরাপত্তাসহ ৮ দাবি পূরণ হলে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল আটটা থেকে কাজে যোগ দেবেন তারা।

 

 

দাবিগুলো হলো হাসপাতালে প্রতিটি অ্যাডমিশন ইউনিটে ২ জন (একজন পুরুষ ওয়ার্ড ও একজন মহিলা ওয়ার্ড) করে প্রশিক্ষিত আনসার নিয়োজিত রাখা এবং সকালের এক ঘণ্টা পর পর টহল টিম থাকা, যারা প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে তদারকি করবে। রাতে অন কল ইন ইমার্জেন্সি হিসেবে ফোর্স প্রস্তুত থাকা। রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ জন এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে। শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন আলাদা সময়ে ভিসিটিং টাইম চালু করতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনো অবস্থায় একজন রোগীর সঙ্গে ২ জনের বেশি এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে না। পরিচালকের সঙ্গে প্রতি মাসে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটা মাসিক সভার ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে সর্বদা মিডলেভেল ডাক্তার থাকতে হবে, বিশেষ করে এডমিশনের দিন।

 

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান সাদিক জানান, তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে তারা সকাল পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করবেন।

 

 

শুক্রবার রাতে হাসপাতালে বাকবিতণ্ডার জেরে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে হেনস্তা করেন রোগির স্বজনরা। পরে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মিলে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনকে আটক করে মারধরের পর পুলিশে হস্তান্তর করে। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়রি করেছে হাসপাতাল প্রশাসন।

 

 

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল জাকির জানান, আটক তিন আসামিকে ৫৪ ধারায় আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।

 

 

অন্যদিকে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

 

হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা বিষয়ে দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির।

 

 

প্রসঙ্গত, ৯০০ শয্যার সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেট অঞ্চলের সর্ববৃহৎ সরকারি হাসপাতাল। প্রতিদিন সক্ষমতার প্রায় তিনগুণ রোগির সেবা দিতে হয় এখানে। শয্যা ছাড়িয়ে মেঝে ও বারান্দা মিলিয়ে গড়ে প্রতিদিন রোগি ভর্তি থাকেন আড়াই হাজারেরও বেশি। এর সঙ্গে যোগ হয় রোগি সাথে আসা এলাধিক স্বজন। ফলে প্রায়ই রোগীর স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728