সিলেট |
প্রকাশিত: 6:16 PM, January 22, 2026
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থীর মূল পেশা ব্যবসা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এদিকে কয়েকজন প্রার্থী হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্ব ও সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) করা ‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবেদনটির তথ্য তুলে ধরা হয়। এসব বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ও টিআইবির কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
টিআইবির তথ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল এতে অংশ নিচ্ছে। যাতে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১৯৮১ জন। এতে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র, অর্থাৎ ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র। আর ১৭৩২ জন দলীয় মার্কা নিয়ে লড়বেন। এর মধ্যে অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৮৯১ জন। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মোট মূল্যের ভিত্তিতে ২৭ জন শত কোটিপতি প্রার্থী।
টিআইবি প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী মূল পেশা বিবেচনায় ব্যবসায়ী। আইন ও শিক্ষক পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন যথাক্রমে ১২.৬১ এবং ১১.৫৬ শতাংশ প্রার্থী। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ১.৫৬ শতাংশ প্রার্থী।
টিআইবি বলছে, এবারের নির্বাচনে বর্তমানে মামলা আছে ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে, যা মোট প্রার্থীর ২২.৬৬ শতাংশ। আর অতীতে মামলা ছিল ৭৪০ জন বা ৩১.৬৪ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এবার ২৫৯ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের অস্থাবর সম্পদ বেশি। ১১৮ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের দালান বা ফ্ল্যাট সংখ্যা বেশি এবং ১৬৪ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের জমির পরিমাণ বেশি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশেরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় আছে। প্রার্থীদের সর্বমোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সর্বশেষ পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এবার ঋণ বা দায়গ্রস্ত প্রার্থী সবচেয়ে কম হলেও তাদের মোট ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১৭ হাজার ৪৭১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
এবারের ভোটে অংশ নেওয়া ১০টি রাজনৈতিক দলের তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি বলছে, বিএনপির ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত; যা দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা; তাদের ক্ষেত্রে এই হার ৩২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাতীয় পার্টির ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী; দুই দলের হার যথাক্রমে ২৫ শতাংশ ও ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে বড় আকারে। মোট প্রার্থীর ৩৬ ভাগের বেশি ইসলামপন্থি দলগুলোর। বিগত ৫টি নির্বাচনের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ বলছে টিআইবি। প্রতিবারের মত এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২১ জন প্রার্থী তাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। তবে টিআইবির কাছে এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে—অন্তত দুই প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও তা হলফনামায় উল্লেখ করেননি। টিআইবির নীতিমালার কারণে এসব প্রার্থীর পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ওই দুই প্রার্থী ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন বা এখনো আছেন, কিন্তু বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে। এ সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এক প্রার্থীর নির্ভরশীলের নামে যুক্তরাজ্যে প্রায় ২১০ কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও তা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। অন্য এক প্রার্থী নিজের ও স্ত্রীর নামে বিদেশে কোনো সম্পদ নেই বলে ঘোষণা দিলেও দুবাইয়ে তার স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, তাদের কাছে এমন তথ্যও রয়েছে—একজন প্রার্থী বিদেশে তিনটি ফ্ল্যাটের মালিকানা থাকার কথা স্বীকার করলেও প্রকৃত সংখ্যা কমপক্ষে তিনগুণ এবং সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের সম্ভাব্য পরিমাণ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। আবার এক প্রার্থী বিদেশে নিজস্ব মালিকানায় কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই বলে দাবি করলেও অনুসন্ধানে তার মোট ১১টি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৮টি সক্রিয় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত।
এ ছাড়া, এক প্রার্থীর করস্বর্গে কোম্পানি নিবন্ধনের পুরোনো তথ্য থাকলেও হলফনামায় এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি বলেও জানায় টিআইবি।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট।