সিলেট ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
বিপিএল শিরোপা জয়ের গৌরব নিয়ে রাজশাহীতে ফিরেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। প্রিয় দলের এই ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনে আজ সোমবার উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো নগরী। ছাদখোলা বাসে করে শহর প্রদক্ষিণের মধ্য দিয়ে খেলোয়াড়দের দেওয়া হয় গণসংবর্ধনা। স্বাগত জানাতে সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়।
সকালে হযরত শাহ মখদুম (র.) বিমানবন্দরে পৌঁছান রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ক্রিকেটাররা। সেখানে থেকেই ট্রফি হাতে ছাদখোলা বাসে ওঠেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিমসহ দলের অন্যান্য সদস্যরা। এরপর বিমানবন্দর সড়ক থেকে শুরু করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংবর্ধনা শোভাযাত্রা।
বাস চলার পথে রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমান হাজারো ক্রিকেটপ্রেমী। কেউ হাতে প্ল্যাকার্ড, কেউ জাতীয় ও দলীয় পতাকা নেড়ে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। ‘গর্বের রাজশাহী’, ‘চ্যাম্পিয়ন ওয়ারিয়র্স’—এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। শোভাযাত্রার সঙ্গে মোটরসাইকেল বহরও যুক্ত হয়, যা নগরজুড়ে সৃষ্টি করে বাড়তি উদ্দীপনা।
সংবর্ধনা শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া রাজশাহী নগরীর উপশহরের বাসিন্দা আল আমিন বলেন, এত বছর ধরে রাজশাহীর জন্য এই দিনটার অপেক্ষা ছিল। আজ নিজের শহরের দলকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সামনে থেকে দেখতে পারাটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ওয়ারিয়র্সের ভক্ত জান্নাতুল ফেরদৌস মৌ বলেন, ‘রাজশাহী ওয়ারিয়র্স আমাদের গর্ব। খেলোয়াড়রা প্রমাণ করেছে, রাজশাহীর মাটিতেও চ্যাম্পিয়ন তৈরি হয়। এই জয় তরুণদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।’
নগরীর সাহেব বাজার এলাকায় মোবাশ্বের আলী লালটু বলেন, ছেলেমেয়েদের নিয়ে এসেছি দলকে এক নজর দেখার জন্য। এমন আনন্দ রাজশাহীতে খুব কমই দেখা যায়। আজ সত্যিই উৎসবের দিন।
বিশ্ববিদ্যালয় পাড়া থেকে আসা একদল সমর্থকের একজন শাওন আহমেদ বলেন, ‘মাঠে যেভাবে লড়াই করেছে, আজ শহরজুড়েও ঠিক সেভাবেই আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। এই জয় রাজশাহীর মানুষের জয়।’
সংবর্ধনার সময় ট্রফি উঁচিয়ে ধরে সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন খেলোয়াড়রা। তাদের হাসি, উচ্ছ্বাস আর কৃতজ্ঞতার প্রকাশে আরও আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন উপস্থিত দর্শকরা। দীর্ঘদিন পর বিপিএল শিরোপা রাজশাহীতে আসায় নগরবাসীর মাঝে ছিল আলাদা এক আনন্দের আবহ।
ক্রিকেটপ্রেমীদের মতে, এই জয় শুধু একটি দলের সাফল্য নয়, বরং রাজশাহীর ক্রীড়া ঐতিহ্যের নতুন এক অধ্যায়। ছাদখোলা বাসে দেওয়া এই সংবর্ধনা স্মরণীয় হয়ে থাকবে নগরবাসীর হৃদয়ে।