সিলেট ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
সিলেট সীমান্ত দিয়ে আসছে বিস্ফোরকের চালান। সীমান্তের চোরাইপথ দিয়ে চালানগুলো আসছে লোকালয়ে। পরে ধরা পড়ছে র্যাব ও পুলিশের হাতে। র্যাব বলছে, এখন পর্যন্ত সিলেটে ধরা পড়া বিস্ফোরকগুলো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন। নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব বিস্ফোরক কেউ দেশে আনতে পারে বলে ধারণা তাদের। এতে বাড়ছে উৎকন্ঠা। রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নির্বাচনের আগেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও বিস্ফোরক চোরাচালানের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের দাবি জানাচ্ছেন।
সিলেটের তিন দিকই ভারত সীমান্তঘেরা। উত্তরে ভারতের মেঘালয়, দক্ষিণে ত্রিপুরা ও পূর্বে আসাম রাজ্য। এর মধ্যে মেঘালয়ের সাথে থাকা সীমান্ত দিয়ে বেড়েছে বিস্ফোরক চোরাচালান। গেল কয়েকদিন ধরে র্যাব ও পুলিশের অভিযানে প্রায়ই ধরা পড়ছে বিস্ফোরকের চালান। গত এক সপ্তাহে এরকম চারটি চালান আটক করেছে র্যাব।এসব বিস্ফোরেকের প্যাকেটের গায়ে প্রস্তুতকারক হিসেবে লেখা রয়েছে ভারতের নাম।
সূত্র জানিয়েছে, ভারতের মেঘালয়ের চুনাপাথর খনিতে ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ‘পাওয়ার জেল’ এবং ‘ইলেকট্রিক ও নন ইলেকট্রিক ডেটোনেটর’ চোরাকারবারি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সিলেট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
গত এক সপ্তাহে র্যাব অন্তত ৪টি বিস্ফোরকের চালান আটক করেছে। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কুওরেরমাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত একটি ভবনের ভেতর থেকে ২৫টি পাওয়ার জেল ও ২৭টি ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোয়াইনঘাটের পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের সাতাইন এলাকায় বনবিভাগের পরিত্যক্ত একটি ভবনের অব্যবহৃত সেফটি ট্যাংকের ভেতর থেকে ৮টি পাওয়ার জেল ও ৮টি নন ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করে র্যাব।
বুধবার রাতে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল এলাকার বারেকেরটিলা ওয়াচটাওয়ারের দক্ষিণ পাশে অভিযান চালিয়ে র্যাব ১.১২৫ কেজি পাওয়ার জেল, ৬টি ইলেকট্রিক ও ১০টি নন ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করে।
গত ২৩ জানুয়ারি দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় রেলওয়ের পুরাতন টয়লেটের ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬টি পাওয়ার জেল ও ৫টি নন ইলেকট্রিক ডেটোনেটর র্যাব উদ্ধার করে। তবে এসব বিস্ফোরকের চালানের সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
র্যাব-৯ এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে অদ্যবধি ভারতীয় ১১ কেজি ৭৪০ গ্রাম বিস্ফোরক ও ৭৮টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে দেশি-বিদেশি ৪০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৪ রাউন্ড গুলি, ৫টি ম্যাগাজিন, ১টি সাউন্ড গ্রেণেড, ৫টি পেট্রোল বোমা, ১১টি ককটেল এবং বিপুল পরিমাণ গুলিসহ ১০২টি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, উদ্ধারকৃত পাওয়ার জেল ও ডেটোনেটরগুলো উচ্চমাত্রার শক্তিশালী বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নাশকতার কাজে ব্যবহারের জন্য অপরাধীচক্র এগুলো নিয়ে আসতে পারে। বিস্ফোরক চোরাচালানের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে র্যাবের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, গণঅভ্যূত্থানের আগে ফ্যাসিস্টদের দোসররা অস্ত্র হাতে মহড়া দিয়েছে। এগুলো এবং লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। আমরা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে বার বার এসব অস্ত্র উদ্ধারের তাগিদ দিয়েছি। এখন বিস্ফোরকের চালান ধরা পড়ছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরকের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান প্রয়োজন।’
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ই ইউ শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘নির্বাচনের পূর্বে সীমান্ত দিয়ে বিস্ফোরক আসার সংবাদে আমাদেরকে উদ্বিঘ্ন করে। নিশ্চয় অসৎ উদ্দেশ্যে এসব বিস্ফোরক আনা হচ্ছে। জরুরিভিত্তিতে বিস্ফোরক চোরাচালানের রুট বন্ধ ও জড়িতদের আটক করা না গেলে নির্বাচন ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা থেকে যাবে।’