ভাষাশহীদদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

প্রকাশিত: ৩:২২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

ভাষাশহীদদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যে সারা দেশে পালিত হচ্ছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহরেই ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধায় নত হয় পুরো জাতি। রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ঢল নামে মানুষের, ফুলে ফুলে ভরে ওঠে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদি।

 

 

একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। রাত বারোটা এক মিনিটে শহীদ বেদিতে পৌঁছে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মরণ করেন।

 

 

রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনারে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 

পরে দলীয় প্রধান হিসেবে নেতাকর্মীদের নিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। পরিবারসহ শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের স্মরণ করেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ৫২-এর বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিন বাহিনী প্রধান। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তি একে একে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান।

 

এদিকে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরাও। পরে আজিমপুরে শহীদদের কবরে দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।

 

 

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। খালি পায়ে, হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে শহীদ বেদিতে ভিড় করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ এসেছেন একা, কেউ পরিবারের ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে— নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানাতে।

 

 

১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছিলেন জাতির সূর্যসন্তানরা। তাদের সেই আত্মত্যাগের স্মৃতিতে একুশ এখন কেবল শোকের নয়, গৌরব ও আত্মমর্যাদারও প্রতীক।

 

 

বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে যেমন শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে, তেমনি ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেকে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের স্মরণ করেছেন। অনেকের হাতেই ছিল বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার আহ্বানসংবলিত প্ল্যাকার্ড।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930