সিলেট ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাগপার সিনিয়র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান।
আজ শনিবার রাজধানীর পল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
রাশেদ প্রধান বলেন, ‘যেহেতু বিএনপির কর্মীরা একটি শব্দ ব্যবহার করার জন্য রাগ করেছেন, কষ্ট পেয়েছেন তাই আমি বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে আর ওই শব্দটি ব্যবহার করব না বলে কথা দিচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই আমার বক্তব্যে বারবার বলেছি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আপসহীন বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি আর নেই। তারেক রহমান তার বাবা-মায়ের আদর্শে বর্তমান বিএনপি পরিচালনা করেন না। তিনি তাদের সম্মান নষ্ট করেছেন, তাদের অপমান করেছেন।’
রাশেদ প্রধান বলেন, ‘গত বুধবার এক আলোচনা সভায় আমার দেওয়া বক্তব্যে আমি একই কথা বলেছি। আমার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা এবং সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অতীতে অসংখ্যবার দেওয়া বক্তব্যে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা না গেলেও ১৫ এপ্রিলের বক্তব্যে বড় রকমের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’
জাগপা নেতা বলেন, ‘আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের বিএনপি নয়। যেটা তিনি নির্বাচনের পরে জুলাইয়ের সঙ্গে বেইমানি করে প্রমাণ করেছেন। আমার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠী প্রতিবাদ, মিছিল, মিটিং, আমার কুশপুত্তলিকা দাহসহ নানাবিধ কর্মসূচি পালন করেছেন। সেটা করার সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার তাদের আছে। আমি সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সাধুবাদ জানাই।’
তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সকালে আমার বাসভবনের সামনে সরকারি দল ও বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠী যেভাবে অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টি করেছে হতবাক করার মতোই। জুলাই গণঅভ্যুথানের সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পঞ্চগড় জেলায় জাগপা কার্যালয় হামলা ও ভাঙচুর করেছিল। গতকাল দেখলাম ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা মিছিল করে সেই আওয়ামী সন্ত্রাসী কায়দায় পঞ্চগড় জেলা জাগপা কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছে।’
রাশেদ প্রধান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন বাংলাদেশে আর কোনো মব কালচার থাকবে না। তারেক রহমান দেশে আসার আগে সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের ব্যঙ্গাত্মক চিত্র শেয়ার করে বাকস্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আমি তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমদের কথার প্রতিফলন দেখার অপেক্ষায় আছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছি, তা শুধুমাত্র আমার বক্তব্য অথবা দলীয় মুখপাত্র হিসেবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) বক্তব্য। এর সঙ্গে আমাদের ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে আমার বক্তব্যকে জামায়াত অথবা ১১ দলের বক্তব্য হিসেবে যারা প্রচার করছেন তারা ভুল করছেন।’
জাগপার সহসভাপতি বলেন, ‘আমাকে বিব্রত করার লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অতি উৎসাহী বিএনপি সমর্থকেরা আমার ফোন করে বকাঝকা দিচ্ছেন। আমাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতার এতো চমৎকার উদাহরণ আমরা আশা করিনি। বিএনপি সমর্থকদের বলতে চাই, জুলাই গণঅভ্যুথানে আমার ১৯ তারিখ মৃত্যু হতে পারত। আমি আল্লাহপ্রদত্ত দ্বিতীয় জীবনযাপন করছি। মৃত্যু ভয় নিয়ে আমি রাজনীতি করি না। মহান রাব্বুল আলামিন যেদিন যে সময়ে আমার মৃত্যু নির্ধারণ করেছেন, তার ১ সেকেন্ড আগে অথবা ১ সেকেন্ড পরে আমার মৃত্যু হবে না।’
জাগপা মুখপাত্র বলেন, ‘রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকার পরেও শুধুমাত্র আমার সহধর্মিণী হওয়ার অপরাধে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমার পরিবারের মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে, যা একটি গোষ্ঠীর রুচিবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যেয়ে আমার মরহুম দাদা পাকিস্তান আমলের স্পিকার মুসলিম লীগ নেতা গমীর উদ্দিন প্রধানকে রাজাকার বলা হচ্ছে। অথচ আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ কোনো সরকারের আমলে তার নামে এই ধরনের কোনো অপবাদ কেউ দেয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যেয়ে আমার মরহুম পিতা জাগপা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানকে রাজাকার বলা হচ্ছে। অথচ ইতিহাস বলে শফিউল আলম প্রধান ৭১ সালের ২৩ মার্চ পরাধীন বাংলার দিনাজপুরে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বানানোর এই মিথ্যা চক্রান্ত নিন্দনীয়। তাকে মহসিন হলে সংগঠিত সাত খুনের হত্যাকারী বলা হচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অসংখ্য বর্ষীয়ান বিএনপি নেতাদের মুখে আমরা শুনেছি এটা মিথ্যা অপবাদ।’
রাশেদ প্রধান বলেন, ‘তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৬৪ জন দুর্নীতিবাজের নামের তালিকা প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে সাত খুন সংগঠিত হয় এবং শফিউল আলম প্রধানকে আসামি করা হয় মুজিব সরকারের নির্দেশে। শফিউল আলম প্রধান তখন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আর সভাপতি ছিলেন বর্তমান বিএনপি সরকারের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। আমি বিএনপি সমর্থকদের বিনয়ের সঙ্গে অনুরধ করব, আমার মরহুম পিতাকে আওয়ামী কায়দায় খুনি বলার আগে আপনাদের নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর কাছে প্রকৃত ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য। ওনাকে খুনি বলা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সিদ্ধান্তকে অসম্মান করা।’