জ্বালানির অভাবে অলস শত শত লাইটার জাহাজ, বিপর্যয়ের মুখে শিল্পখাত

প্রকাশিত: 6:58 PM, April 4, 2026

জ্বালানির অভাবে অলস শত শত লাইটার জাহাজ, বিপর্যয়ের মুখে শিল্পখাত

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলায় পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। লাইটার জাহাজে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বহির্নোঙরে থাকা মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসে চরম দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিয়েছে। যা আমদানিকারক ও শিল্পখাতের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পশুর নদসহ বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় শত শত খালি লাইটার জাহাজ সপ্তাহের পর সপ্তাহ নোঙর করে অলস পড়ে রয়েছে। একই চিত্র খুলনার রূপসা নদীর চার ও পাঁচ নম্বর ঘাট এলাকাতেও। জ্বালানির অভাবে এসব লাইটার পণ্য বোঝাই করতে যেতে না পারায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

 

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, লাইটার সংকটের কারণে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব হচ্ছে, ফলে জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে প্রতিদিন গুনতে হচ্ছে বাড়তি বিলম্ব মাশুল। একই সঙ্গে খাদ্যশস্য, সার ও শিল্প কাঁচামাল খালাস ও পরিবহনে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

এমভি ‘আর রশিদ-১’ লাইটারের মাস্টার মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম জানান, জ্বালানি না পাওয়ায় তাদের লাইটার এক সপ্তাহ ধরে খালি বসিয়ে রাখতে হয়েছে। ফলে তারা পণ্য পরিবহনে অংশ নিতে পারছেন না।

 

 

শিল্পখাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। খুলনার রূপসা এলাকায় অবস্থিত একটি সিমেন্ট কারখানার উৎপাদন বিভাগের কর্মকর্তা মো. মামুন জানান, লাইটার সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে জাহাজ থেকে কাঁচামাল খালাস করা যাচ্ছে না। এতে প্রতিদিন প্রায় ১৭ হাজার ডলার বিলম্ব মাশুল গুনতে হচ্ছে এবং কারখানায় কাঁচামালের সংকট দেখা দিয়েছে।

 

অন্যদিকে, শেখ সিমেন্ট কারখানার এজিএম আজাদুল হক বলেন, ‘ক্লিংকার পরিবহন করতে না পারায় তাদের উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।’

 

লাইটার মালিকদের অভিযোগ, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ায় তারা লাইটারে তেল দিতে পারছেন না। এমভি ‘মিমতাজ’ লাইটারের মালিক মো. খোকন জানান, তেল ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় লাইটারে জ্বালানি দিতে পারছেন না, ফলে পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে।

 

মেঘনা ওয়েল কোং মোংলাস্থ মেরিন ডিলার ও এজেন্ট মেসার্স নুরু এন্ড সন্স এর মালিক এইচ এম দুলাল জানান, দেশে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জাহাজ আগমন বাড়ায় জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে। তবে সেই তুলনায় সরবরাহ না থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ ধরার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের এক কর্মকর্তা জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব ও সীমিত সরবরাহের কারণে সরকার নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি বিতরণ করা হচ্ছে।

 

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত জ্বালানি সংকট নিরসন না হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031