সিলেট ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:৩৫ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
ঢাকায় দায়িত্ব নেওয়ার আগে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সামরিক সহযোগিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জনতথ্য বিভাগ।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা সমন্বয় এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগের অংশ হিসেবেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এটি ভারতের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়।
বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘তাদের নাগরিক নিয়ে তারা কী করবে, কীভাবে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করবে এটি তাদের নিজস্ব বিষয়। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন এবং তাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা যা বলবে, সেটিও তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এ বিষয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য থাকার কথা নয়।’
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে ফেরত চেয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে ফেরত চাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী অনুরোধ করা হয়েছে। আমরা চাই তিনি দেশে ফিরে মামলার মুখোমুখি হোন।’
তিনি আরও বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এএনআইর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বক্তব্য ও যোগাযোগে স্পষ্ট হচ্ছে যে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, উভয় দেশই নতুন বাস্তবতাকে সামনে রেখে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে কাজ করছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে সম্পর্ক আরও বাস্তবভিত্তিক ও পারস্পরিক স্বার্থকেন্দ্রিক রূপ নিচ্ছে।
তবে একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দুই দেশের সম্পর্ক এখনো একটি জটিল পর্যায় অতিক্রম করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।