সিলেট ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৩৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
আফগানিস্তানে প্রায় ২৪ লাখ কিশোরীে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। মেয়েদের শিক্ষার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে তালেবান সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক তথ্যে ইউনেস্কো জানায়, গত বছরের হিসাবের তুলনায় মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত মেয়েদের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ বেড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখে পৌঁছাতে পারে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য জানা যায়।
বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে আফগানিস্তানে মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা নিষিদ্ধ রয়েছে। নারীদের ওপর একাধিক বিধিনিষেধের কারণে জাতিসংঘ ইতোমধ্যে দেশটির পরিস্থিতিকে ‘জেন্ডার অ্যাপারথেইড’ বা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছে।
২০২২ সালের মার্চে আফগান মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেয় তালেবান সরকার। একই বছরের ডিসেম্বরে নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর ২০ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসানের পর তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে।
শুধু ছাত্রীদের শিক্ষাই নয়, নারী শিক্ষকদের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তালেবান সরকার। ছেলেদের পড়ানোর ক্ষেত্রে নারী শিক্ষকদের নিষিদ্ধ করার ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ইউনেস্কোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে আফগানিস্তানে ১১ হাজারের বেশি যোগ্য নারী শিক্ষকের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
সংস্থাটি বলছে, শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আফগানিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতি আরও বেশ কিছু সমস্যার চাপে রয়েছে। দেশটির অনেক বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে।
প্রায় অর্ধেক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা অথবা শীতকালে প্রয়োজনীয় উষ্ণতার ব্যবস্থা নেই। গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায় এক হাজার বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে।
মাধ্যমিক শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বন্ধ থাকার পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়েও বিপুলসংখ্যক শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার বয়সী ২০ লাখের বেশি শিশু বর্তমানে স্কুলে যাচ্ছে না।
দেশটির শিক্ষার মান নিয়েও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে সংস্থাটি। ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই একটি সাধারণ লেখা পড়তে পারে না। এর ফলে আফগানিস্তানে জাতীয় সাক্ষরতার হার নেমে এসেছে মাত্র ৩৭ শতাংশে।
ইউনেস্কো সতর্ক করে বলেছে, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত জীবনে নয়, পুরো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের ওপর পড়বে।
আফগান মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে তালেবান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে। কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশও এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
তবে তালেবান সরকার এসব আন্তর্জাতিক আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়।