সিলেট ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে থাকা তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করেছে মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত সরকার। নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হলে তাদের ফেরত নেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ শনিবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এপি।
রোহিঙ্গা সংকটের নবম বছর শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ তথ্য জানানো হয়। আজ শনিবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
তালিকায় থাকা ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়। এ ছাড়া ৪ হাজার ২৪১ জনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত বলে দাবি করেছে মিয়ানমার।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাখাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যাচাই করা এসব সাবেক বাসিন্দাকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে ঢাকার সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখবে তারা।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর স্থাপনায় রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। এরপর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। মিয়ানমার অবশ্য রোহিঙ্গাদের দেশটির ১৩৫টি স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠীর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে।
২০১৮ সালে দুই দেশ দুই বছরের মধ্যে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সম্মত হলেও পরিস্থিতির অবনতির কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান এবং রাখাইনে আরাকান আর্মির সঙ্গে চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।