বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত

প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ভিসাপ্রার্থীদের নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে নতুন একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করার কারণে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর সঙ্গে সমন্বয় করতেই ভিসাসেবা-সংক্রান্ত কিছু অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

 

সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের তারিখ আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, তাদের অনেককে ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে।

পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নির্দিষ্ট সময়কাল বা কতদিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।

 

দপ্তরের ভাষ্য, প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ভিসাপ্রার্থীদের আরও গভীরভাবে যাচাই করার ক্ষেত্রে প্রস্তুত করা। বিশেষ করে কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কিনা, তা শনাক্ত করার বিষয়েও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সব আবেদনকারীর মূল্যায়ন যাতে ধারাবাহিক ও সমন্বিতভাবে করা হয়, সেটিও প্রশিক্ষণের একটি লক্ষ্য।

 

ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও বহিষ্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে বৈধ ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং নতুন আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঘটনাও ঘটছে। রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা ইসরায়েলের গাজা অভিযানবিরোধী ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো বিষয়ও কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনের নজরে এসেছে।

 

ট্রাম্প প্রশাসন এসব পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে এ নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা সরব হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

 

এদিকে, অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে প্রশাসনকে আদালতের বাধারও মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার এক মার্কিন বিচারক বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর স্থগিতাদেশ আরোপ করা সংক্রান্ত একটি নীতি বাতিল করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।

 

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আরও অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, পরিচয়ের ভিত্তিতে অনেক মানুষ অযাচিত সন্দেহ ও বাড়তি নজরদারির মুখে পড়তে পারেন।

 

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ক্ষমতায় ফেরার পর তার প্রশাসনের পদক্ষেপে শুধু অবৈধ নয়, বৈধ অভিবাসনপ্রক্রিয়াও আগের তুলনায় কঠোর হয়ে উঠছে বলে সমালোচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930