সিলেট |
প্রকাশিত: 10:04 PM, May 10, 2020
শরিফা বেগম শিউলী/রংপুরঃঃ
বর্তমান বিশ্ব সময় করোনাকাল।এই করোনাকালে সারা বিশ্ব আজ গৃহবন্দি।বাংলাদেশ ও এর ব্যতিক্রম নয়।করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ও দলীয় নেতা-কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। রংপুরে জেলা আওয়ামী লীগের তরুণ, উদ্দ্যমী নেতা উপ-দপ্তর সম্পাদক এরশাদুল হক রঞ্জু করোনার প্রাক্কলে শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়ার্ড ইউনিয়নে গত ২০ শে মার্চ থেকে ২৬ শে মার্চ পর্যন্ত সকাল থেকে রাত অবধি নিজেই সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাইকিং করে প্রচারণা চালান।
করোনার শুরুতেই মাইকিং ও ৫০০ পিস হ্যান্ড স্যানিটাইজার,২ হাজার ফেস মাস্ক,রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে লিফলেট এবং বিভিন্ন হাটবাজারে জীবাণুনাশক স্প্রে কার্যক্রম করেছেন এই তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা। গত ২৮ শে মার্চ রংপুর সিটিকর্পোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি শহীদ আবাসন ৫০ টি পরিবারের মাঝে ৫ দিনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।বস্তির ৫০ টি পরিবারের নেতা মজিবুর রহমান বলেন,সরকার আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিছেন কাজ কইরা খাইতাম কিন্তু করোনার কারণে বাড়িত থাইকা বাইর হইতে পারিনা।
কাজে যেতে না পারায় খুবই কষ্টে দিনপার করতে হইছে।কাল থেকে কি খাইম,তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিনু।কিন্তু আল্লাহ খাদ্য পাঠাই দিছে। তিনিই রিজিকের মালিক।ভাববার পারও নাই হামার এলাকার ছাওয়া জেলা আওয়ামী লীগের নেতা এত রাতে খাবারের ব্যাগ নিয়ে বাড়িতে আসপেন। পরেরদিন উক্ত ওয়ার্ডে দুস্থ-অসহায়-নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে দুই শত খাদ্য উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন।
তিনি বলেন-আমি আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে করোনা আপদকালীন সংকটে ২৫০ অসহায় পরিবারে মাঝে বিতরণ করলাম।আর ও ২৫০ শত পরিবারকে ফোন কলের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন ধারাবাহিক ভাবে বিতরণ করে বলে জানান।আনেছটারীর খাবেরন বেওয়া জানান,তিনি অন্যের বাড়িত থালাবাসন মাঝার কাজ করেন।করোনার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে কাজ বন্ধ।ঘরে যে খাবার ছিলো তাও শেষ হয়ে গেছে।ভাবছি সামনের দিনগুলো কিভাবে চলবে?সোমবার হঠাৎ বাড়িতে এসে কেউ আছেন-ডাকতেই ঘরের দরজা খুলে দেখি আওয়ামী লীগের নেতা আসছে।তিনি চাল,লবণ,ডাল,আলু ও তেলের একটি বস্তা দিয়ে বললেন,এতে আপনার ৫ দিন চলবে।
তিনি বলেন-করোনার প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সরকারি নির্দেশ মান্য করে রংপুর মেডিকেল কলেজের আটকে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের খাদ্য সামগ্রী স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে নিজে পৌছায় দেন।রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সজিবুর রহমান প্রামাণিক বলেন মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের কিছু শিক্ষার্থী আটকে পড়ায় বন্ধুবর আওয়ামী লীগ নেতা রঞ্জুকে সমস্যার কথা বললে তিনি খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ছুটে আসেন।
সত্যিই এমন মানবিক নেতা রংপুর আওয়ামী রাজনীতির জন্য খুবই প্রয়োজন। লোকসমাগম এড়িয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাতের আধারে অথবা দিনে একাই মোটরসাইকেলে করে প্রতিদিনের ফোন কল যাছাই-বাছাই করে একান্তই নিত্যান্ত গরীবদের মাঝে ধারাবাহিকভাবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন।। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শহরের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ ও কর্মহীন,দুস্থ,রিকশা চালক,ভ্যান চালক,ভবঘুরে,ছিন্নমূল মানুষের মাঝে গত ২৭ শে এপ্রিল ২ শত ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক এরশাদুল হক রঞ্জু।মাহে রমজান মাস জুড়ে তার এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে দেশের এই ক্রান্তিকালে নিজের সামর্থ্য থেকে ও পরিবারের সহযোগিতায় মানুষের জন্য কিছু করার ক্ষুদ্র চেষ্টা মাত্র।তিনি করোনাকাল সময়ে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।। সর্বশেষ তিনি একটি কথা বলে শেষ করেন – আমি একটি কথা চিন্তা করি – আজ থেকে ২০ বছর পরে আমার সন্তান আমার দিকে তাকিয়ে না বলে-“বাবা তুমি কিছু করনি কেন করোনায় কাতর অসহায় মানুষের জন্য, তাই আগামীদিনের আমার সন্তানের প্রশ্নের উত্তর আমি প্রস্তুত করে রাখার চেষ্টা করছি।
আমি রঞ্জু” জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন গর্বিত ক্ষুদ্র কর্মী বলছি। তাই “আসুন আমরা করোনা পরিস্থিতিতে নিজেদের চাহিদা একটু কম রেখে আর একজনকে তা তুলে দেয়ার চেষ্টা করি- তাহলেই আমরা সাম্ভাব্য সময়ের আগেই মাননীয়প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আবার দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাব দেশ ও জাতি হিসেব।