জামালগঞ্জে ১৪৪ ধারা অমান্য করে বিল্ডিং নির্মান

প্রকাশিত: ৪:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০

জামালগঞ্জে ১৪৪ ধারা অমান্য করে বিল্ডিং নির্মান
মোঃ বায়েজীদ বিন ওয়াহিদ/ জামালগঞ্জঃঃ
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারে আদালত কর্তৃক জারি করা ১৪৪ ধারাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মৃত প্রভাত চন্দ্র পালের স্ত্রী মিলা রাণী, তার মেয়ে সুমিত্রা পাল ও তার ২  ছেলে লিটন পাল,অনয় কৃঞ্চ পালের বিরুদ্ধে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ৩ জনই বিবাদী মিলা রাণীর সন্তান।
এই ঘটনায় বিবাদমান বাজারের জায়গা নিয়ে যে কোন সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশংকা করছেন আশেপাশের দোকানদার ও সাচনা বাজার বণিক সমিতি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক আপোষ বন্টন ও বিভিন্ন ডকুমেন্টস এর ভিত্তিতে মনোরঞ্জন পাল মালিক হন ৬ এর ৫ অংশের। মনোরঞ্জনের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী সূত্রে তার ছেলে এডভোকেট মনি শংকর পাল ও মনোজ কৃঞ্চ পাল,তারা দুই ভাই সম্পত্তির মালিক হন। তাছাড়া এই সম্পত্তির ওয়ারিশ উপরোক্ত দুই ভাই এডভোকেট মনি শংকর পাল, ও মনোজ কৃঞ্চ পাল বর্তমান মালিক মর্মে অন্যান্য ওয়ারিশগন ও বিবাদী গং ৪ জনেই পূর্বে স্বীকৃতি দিয়েছে,যার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসও আছে বলে জানান অভিযোগকারী এডভোকেট মনি শংকর পাল।
কিন্তু হঠাৎ করে গত কয়েক বছর যাবত নালিশা ভূমির পার্শ্ববর্তী অংশীদার প্রভাত চন্দ্র পালের স্ত্রী মিলা রাণী পাল অংশীদারীত্ব ভূমির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নতুন করে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এতে বাদি মনি শংকর পাল থানায় আবেদন করেন এই মর্মে যাতে এটা সুস্থ তদন্ত করে সঠিক বিচার ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারন করায় মোকদ্দমা নং ৯৬/২০২০ইং।
কোর্টে  মামলা করেন এডভোকেট মনি শংকর পাল। এবং সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করলে,আদালত তা আমলে নিয়ে মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত নালিশা ভূমিতে কোন স্থাপনা করা যাবেনা মর্মে ফৌজ কার্যবিধির ১৪৪ ধারা মতে নালিশা ভূমিতে শান্তি শৃঙ্খলা ও অন্তবর্তীকালীন স্থিতাবস্থা বজায় রাখার স্বার্থে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ সোহেল মাহমুদ গত ২৭ ফেব্রুয়ারী ১৪৪ ধারা জারি করে সমস্ত কাজে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন।
বাদি জানান, নালিশা ভূমি,পলক মৌজার আওতাধীন জে,এল,নং ৫৭, এস,এ ২২৩ নং খতিয়ানের, ৫৩৮ নং দাগের এরিয়া-.০১ একর ভীট রকম ভূমি। যার উপর ভূমি সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকা ও বিজ্ঞ আদালত হতে ১৪৪ ধারা জারি থাকার পরও জোর পূর্বক মিলা রাণী গং ১৫ জুন হতে নালিশা বাজারের ভিটে স্থাপনা বিল্ডিং নির্মাণ শুরু করেন।
তথ্যঅনুসন্ধানে ও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাদি ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা আছে জানিয়ে গত ১৬ জুন সাচনা বাজার বনিক সমিতিকে অবহিত করেন এবং কাজ বন্ধ রাখতে নিষেধ করেন। বাদির দেয়া তথ্য মতে বনিক সমিতির নেতারা এসে নালিশা ভূমিতে ১৪৪ ধারা জারি আছে বলে উল্লেখ করে কোন ধরনের কাজ না করার জন্য বিবাদীগনকে জানালে তারা তাদের কথাকে পাত্তা না দিয়ে কাজ চালিয়ে যান।
পরে ১৭ জুন সকালে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো সাইফুল আলমকে জানালে তিনি বলেন আমার থানার ৮জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত, সুতরাং আমার থানার প্রায় সকলেই আইসোলেশনে আছি। তাছাড়া জামালগঞ্জ সদর রেড জোন ঘোষণা করায় এই মুহুর্তে কোন সহযোগিতা করা যাচ্ছে না। তবে আপনারা স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে তাদেরকে কাজ বন্ধ রাখতে বলুন। পরবর্তীতে সাচনা বাজার  ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক আফিন্দিকে ১৪৪ ধারার এই বিষয়ে বিস্তারিত বললে তিনি নিজে এসেও কাজ করতে নিষেধ করেন। কিন্তু কিছু সময়ের জন্য কাজ বন্ধ করলেও তিনি চলে গেলে পরক্ষনেই আবার কাজ শুরু করেন।
এমতাবস্থায় বাদী আরো জানান, তাদের অত্যাচারে আমরা থাকতে পারছিনা। তারা ইটপাটকেল দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে  দিনের বেলায় ঢিল ছুড়ে মারে আমার বাসা ও মার্কেেটের বিভিন্ন দোকানের টিনের চালের উপর। যা ব্যবসায়ীদের জন্য চরম হতাশা। গত ২১ মে আমাদের মার্কেটের টিনের চালের উপর উঠে প্রায় ৮ টি দোকানের চালকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে কেটে ফেলা হয়। যা ওই সময় বিভিন্ন দৈনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু ইদানীং তারা এই ভূমির উপর কাজ শুরু করলে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি, চেয়ারম্যান ও বনিক সমিতি সহ সকলেই নিষেধ করার পরও যখন তারা কাজ বন্ধ করছে না,তখন আমি নিরুপায়।
তাছাড়া বিবাদী ও তার মেয়ে মহিলা হওয়াতে, আইনি জটিলতা ও যেকোন সময় শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনার আশংকায় তাদের সাথে কথা কাটাকাটি করাও সম্ভব হয় না। বাদী আরো বলেন আমি একজন আইনজীবী হয়েও ১৪৪ ধারাকে অবমাননা করায় চরম হতাশায় ভোগছি তাদের এসমস্ত সন্ত্রাসী কার্যক্রমে। দেশে চলমান করোনা সংকট মোকাবেলায় আদালত বন্ধ থাকাতে এই মুহুর্তে আমি কোর্টেরও শরণাপন্ন হতে পারছি না। তাই মানসিক ভাবে চরম হতাশার মধ্যে আছি।
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো সাইফুল আলম বলেন আমি মৌখিকভাবে ফোনে অভিযোগ পেয়েছি, কিন্তু বর্তমানে আমি সহ থানার প্রায় সকলেই আইসোলেশনে থাকায় বের হতে পারছিনা।
বনিক সমিতির সহ সভাপতি ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চিত্ত রঞ্জন পাল জানান, বাদি এডভোকেট মনি শংকর পাল আমাকে এ ব্যপারে অবহিত করেছে, আমি নিজে গিয়ে ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা আছে বলে কাজ আপাতত বন্ধ রাখতে বলেছি। কিন্তু তারা আমার কথা অগ্রাহ্য করে বলছে আমরা কোর্ট থেকে কাজ করার অনুমতি পেয়েছি। পরে তাদেরকে কোর্টের কাগজ দেখাতে বললে তারা অপারগতা প্রকাশ করেন।
এব্যাপারে সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হক আফিন্দির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি এধরণের একটি অভিযোগ পেয়েছি। ১৪৪ ধারায় এখানে নিষেধাজ্ঞা আছে এটাও জেনেছি। পরবর্তীতে আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি তাদের মার্কেটের বিভিন্ন দোকানের ক্ষতি করে বিল্ডিংয়ের কাজ করছে। তাছাড়া বিবাদীগন কারো কথাই শুনতে রাজি না।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব জানান আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। তবে এখানে ১৪৪ ধারা জারি থাকলে কাজ করার কথা না। যদি বিবাদীগন কোর্টের আদেশ না মানে, তাহলে বাদিকে অবশ্যই আবার আদালতের দারস্থ হতে হবে। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলার কোন অবনতি ঘটার সম্ভাবনা থাকলে আমরা যেকোন সময় সহযোগিতা করবো।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

July 2024
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031