লন্ডনে নিজের স্ত্রী ও দুই কন্যাকে হত্যা করে সিলেটি যুবক

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২০

লন্ডনে নিজের স্ত্রী ও দুই কন্যাকে হত্যা করে সিলেটি যুবক
৬০৭ Views

লন্ডন অফিসঃঃ

১৯৯৯ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে বিয়ে হয় শুকুর ও জুলির । তারা সম্পর্কে কাজিন। বিয়ের পর জুলি ফিরে যান লন্ডনে । এক বছর পর তিনি তার স্বামী শুকুরকে লন্ডনে নিয়ে যান। ২০০০ সালের আগস্টে  জন্ম নেয় তাদের মেয়ে তানহা। এক বছর পর আরেকটি মেয়ে অনিকা জন্ম নেয়।  সুখেই সংসার চলেছিলো তাদের।

 

এর পরের বছর ২০০৩ সালে অভিবাসন আবেদন নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার শুরু হয়। ফলে জুলি চলে যান অন্য বাসায়। এর পর থেকে শুকুরের বৃটিশ ভিসা নবায়নে সাহায্য করতে রাজি হননি স্ত্রী জুলি। এ নিয়ে প্রায়িই ঝগড়া হতো দুজনের মধ্যে। অবশেষে এই ঝগড়া মৃত্যু পর্যন্ত গড়ায় জুলি এবং তার দুই মেয়ের।

 

তখন ছিলো ২০০৭ সাল। শুকুর সারে’র একটি রেস্তরাঁয় দৈনিক ১৩০ পাউন্ডের বিনিময়ে কারি শেফ এর কাজ করতেন। ওই দুই কন্যার বয়স ছিল যথাক্রমে পাঁচ ও ছয়। জানুয়ারী মাসের এক রাতে এক সহকর্মীর কাছ থেকে ১০০ পাউন্ড ধার নিয়ে পূর্ব লন্ডনের ইস্ট হ্যামে অবস্থিত জুলি বেগমের বাসায় যান শুকুর।

 

এরপর তিনি স্ত্রীর সঙ্গে শেষবারের মতো সহবাসে লিপ্ত হন। তারপর তিনি জুলি বেগমকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। তিনি কন্যা অনিকাকে সাদা মোজা দিয়ে ফাঁস দিয়ে ও তানহাকে মাথার খুলিতে আঘাত করে হত্যা করেন। হত্যার পর নিজের পিতা মারা যাওয়ার কথা বলে ৫ই জানুয়ারি লন্ডন থেকে বাংলাদেশে চলে আসেন শুকুর।

 

বাংলাদেশের সিলেটের এই বাসিন্দা শুকুর এক মাস পর বাংলাদেশে জুলি বেগমের বোনের বাড়িতে হাজির হন। সেখানে তিনি তাকে হুমকি দেন এই বলে যে, ‘আমি তোমার বোনকে হত্যা করেছি এ কথা পুলিশকে বলবে না। বললে তোমাকে আর তোমার সন্তানদেরও হত্যা করবো।

 

২০০৭ সালের ১০ই জানুয়ারি জুলির বড় বোন শেলি বেগম পুলিশকে জানান যে, প্রায় ১০ দিন ধরে জুলি বা নিজের বোনের মেয়েদের তিনি দেখছেন না। পুলিশ সেদিন গিয়েই তাদের লাশ উদ্ধার করে।

 

হত্যাকান্ডের  পর বাংলাদেশে পালিয়ে এলেও, পরবর্তীতে যখন যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে, তখন তিনি ভারতে পালিয়ে যান। এরপর ২০১২ সালের ২৩শে মে তাকে আসামে আটক করা হয়। এরপর এই বছরের এপ্রিলে তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়। তিনি ৩টি হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

 

 এ খবর দিয়েছে বৃটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল।  জুলি বেগমের পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আবদুল শুকুর আমাদের পুরো পরিবারকে ধ্বংস করেছে। সে এক মিষ্টি মা ও বোন, জুলিকে কেড়ে নিয়েছে। সে কেড়ে নিয়েছে দুই মিষ্টি মেয়ে তানহা ও অনিকার ভবিষ্যৎ।’ লন্ডনের বিচারক রিচার্ড মার্কস কিউসি বলেছেন, শুকুর যাবজ্জীবন সাজা পেতে পারে।

 

সরকারি কৌঁসুলি ডেভিড সেপন্স বলেন, বিবাহিত থাকা অবস্থায় জুলি বেগম কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারতেন না। তার জীবন ছিল বন্ধুবিহীন। সেপন্স আরো বলেন, জুলি বেগম ও আসামির মধ্যেকার বিবাহিত জীবন সুখের ছিল না। আসামির অভিবাসন মর্যাদা আর সংসারে তার অবদান নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকতো দু’ জনের মধ্যে। আসামি যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন বৈবাহিক ভিসায়। ফলে যুক্তরাজ্যে বসবাসের জন্য জুলির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তিনি।

 

আসামি প্রায়ই বাসায় গিয়ে জুলিকে বলতো যে, তিনি আরো সুন্দরী নারীদের সঙ্গে ছিলেন। তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো, আর আসামি হুমকি দিতেন, ‘তুমি যদি আমার ভিসা ঠিক না করে দাও আর এই দেশে থাকা বৈধ করে না দাও, তাহলে আমি তোমাকে আর তোমার পরিবারকে হত্যা করবো।’ তিনি জুলি বেগমকে আরো বলতেন যে, তিনি সুন্দরী নন। তিনি তাকে বিয়ে করেছেন শুধু লন্ডনে আসার জন্য।

 

জুলি চিন্তিত ছিলেন যে, যদি শুকুর যুক্তরাজ্যে থাকার ভিসা পেয়ে যায়, তাহলে তিনি তাকে ছেড়ে চলে যাবেন ও অন্য কাউকে বিয়ে করবেন। এ কারণে জুলি ওই অভিবাসন আবেদন এগিয়ে নিতে সাহায্য করতে রাজি ছিলেন না। এ কারণেই ঝগড়া লাগতো প্রায়ই।

Spread the love

Follow us

আর্কাইভ

April 2024
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930