সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে অপরিচিত২ ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পেয়েছে র‌্যাব

প্রকাশিত: ২:৪৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২০

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে অপরিচিত২ ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পেয়েছে র‌্যাব

 

লন্ডন বাংলা ডেস্কঃঃ

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের বাইরের দু’জন অপরিচিত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ মামলায় হাইকোর্টে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) তদন্ত কর্মকর্তার জমা দেওয়া অগ্রগতি প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

 

আদালতের পূর্ব নির্দেশনা অনুসারে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে সোমবার (৩ মার্চ) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার শফিকুল আলম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দু’জন অপরিচিত ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। সাগরের হাতে বাঁধা চাদর এবং রুনির টি-শার্টে ওই দুই ব্যক্তির ডিএনএ’র প্রমাণ মিলেছে।

 

র‌্যাবের তদন্ত ও ফরেনসিক বিভাগের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘আমরা একটি প্রতিবেদন উচ্চ আদালতে দিয়েছি। আদালতকে তদন্তের অগ্রগতি জানানো হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই মামলায় আসামি তানভীরের ভূমিকা রহস্যজনক। এই মামলা থেকে তাকে বিচারিক আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেওয়া যুক্তিযুক্ত হয়নি।

 

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, আমেরিকায় পাঠানো ডিএনএ নমুনার সঙ্গে অপরিচিত দুই ব্যক্তির ডিএনএ’র মিল পাওয়া গেছে।

 

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘আমরা সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের জন্য কিছু আলামত আমেরিকাতে পাঠিয়েছিলাম। আলামত থেকে দুজন অপরিচিত ব্যক্তির ডিএনএ শনাক্ত হয়েছে। এই ডিএনএ’র মাধ্যমে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের একটি মুখাবয়ব আঁকার চেষ্টা চলছে। এই বিষয়টি আমরা হলফনামা আকারে উচ্চ আদালতের অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জমা দিয়েছি। সেটা আদালতে জমা হবে।

 

এর আগে গত ১৪ নভেম্বর এ মামলার সন্দেহভাজন আসামি তানভীরের জামিনের বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

 

আদালত তার রায়ে বলেন, সামগ্রিক ঘটনা ও আইনগত অবস্থা বিবেচনায় সাগর-রুনি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে সন্দেহভাজন আসামি মো. তানভীর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। একইসঙ্গে সামগ্রিক অবস্থা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী ৪ মার্চ বা তার পূর্বে এ মামলার তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা এবং অপরাধের সঙ্গে বর্তমান আসামি তানভীরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন হলফনামাসহ দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব এ মামলার তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিল করে।

 

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরের দিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।

 

ওই ঘটনায় রুনির ভাই বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন শেরেবাংলা নগর থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। পরে চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু গত সাত বছরেও মামলার তদন্তে অগ্রগতির কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

এ মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আসামি আট জন। অন্য আসামিরা হলো, বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। আসামিদের প্রত্যেককে একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হলেও তাদের কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি।

 

এদিকে আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাসের আদালতে দাখিলের জন্য দিন নির্ধারণ থাকা সত্ত্বেও ৬৩ বার সময় পেছানো হয়।

 

তবে এরইমধ্যে এ হত্যা মামলা বাতিল চেয়ে সন্দেহভাজন আসামি মো. তানভীর রহমানের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন। পাশাপাশি ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার শফিকুল আলম হাইকোর্টে হাজির হয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান।

Spread the love

আর্কাইভ

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031