ব্রিকস সম্মেলন: বিশ্বব্যাপী দাপটের জন্য চাপ দেবে সদস্যরা

প্রকাশিত: ৩:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২২

ব্রিকস সম্মেলন: বিশ্বব্যাপী দাপটের জন্য চাপ দেবে সদস্যরা
Spread the love

১০ Views

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃঃ

ভূ-রাজনৈতিক শৃঙ্খলায় বড় পরিবর্তনের মধ্যে ব্রিকস গ্রুপের দেশের নেতারা এই বছর সম্মেলনে মিলিত হচ্ছেন। পাঁচ দেশের নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে নামকরণ করা গ্রুপটির সদস্য দেশগুলো হচ্ছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃহস্পতিবার বার্ষিক সম্মেলনে মিলিত হচ্ছেন জোটের নেতারা। তবে কিন্তু ধুমধাম কিংবা বিশাল প্রত্যাশা ছাড়াই আয়োজন হচ্ছে এবারের সম্মেলন।

 

আলোচনাও অনুষ্ঠিত হবে ভার্চুয়াল ফরম্যাটে। এনিয়ে টানা তৃতীয় বছর এভাবে সম্মেলন আয়োজিত হচ্ছে। গত দুই বছর করোনা মহামারির কারণে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয় এই সম্মেলন। তবে এই বছর সামনা-সামনি বৈঠকের বদলে নেতারা কেন ভার্চুয়াল সম্মেলনে আগ্রহী হলেন তা স্পষ্ট নয়। এটি কোয়াড সম্মেলনের সম্পূর্ণ বিপরীত। অস্ট্রেলিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের এই জোটটি গত মাসে জাপানে সম্মেলনে মিলিত হয়।

 

বিশ্ব মিডিয়ার তীক্ষ্ণ নজরের মধ্যে জোটের নেতারা ব্যক্তিগতভাবে বৈঠকে বসেন। কিছু বিশ্লেষক বলছেন এর আংশিকভাবে কারণ ব্রিকস বছরের পর বছর সত্যিই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ২০০৯ সালে যখন এটি যাত্রা শুরু করে, তখন আশা করা হয়েছিল, গ্রুপটি বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন আকার দেবে এবং উন্নয়নশীল বিশ্বকে সাহায্য করার জন্য একটি নতুন আর্থিক ব্যবস্থা তৈরি করবে। জোটের সাফল্যকে সবচেয়ে ভালোভাবে মধ্যপন্থী হিসাবে বর্ণনা করা যেতে পারে, তবে এর গুরুত্বকে অতিমাত্রায় বলা যাবে না। ব্রিকস দেশগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যা ৩২৩ কোটি এবং তাদের সম্মিলিত জিডিপি ২৩ লাখ কোটি ডলারের বেশি।

 

ওয়াশিংটনের থিংক ট্যাংক উইলসন সেন্টারের উপপরিচালক মাইকেল কুজেলম্যান বলেন, ‘ব্রিকস অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে হতে পারে কারণ এটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিদ্যমান ব্যবস্থায় কার্যকর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিকল্পের সূচনা করার দীর্ঘস্থায়ী প্রচেষ্টাকে সত্যিই এগিয়ে নেয়নি’। তবে তিনি আরও বলেন ব্রিকস বন্ধ লেখা ভুল হবে কারণ এর যৌথ অর্থনৈতিক শক্তি। ব্রিকসের কেন্দ্রস্থলে সব সময়ে থেকেছে অর্থনীতি তবে বৃহস্পতিবারের শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ বড় হয়ে উঠতে পারে।

 

দেশগুলো হয়তো যুদ্ধের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নাও করতে পারে, তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো একে অপরের সঙ্গে কথা বলার সময় এটি নিয়ে আলোচনা হবে। কন্ট্রোল রিস্ক কনসালটেন্সির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক প্রত্যুষ রাও বলেন, কোনও সন্দেহ নেই সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হবে।

 

তিনি বলেন, ‘অনেক মানু এই সম্মেলনের দিকে নজর রাখবে, বিশেষ করে ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে গতিশীলতার দিকে’। চীন রাশিয়ার প্রতি সমর্থনের বিষয়ে বেশি খোলামেলা হলেও, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিল যুদ্ধের বিষয়ে কূটনৈতিক দৃঢ়তার সঙ্গে চলার চেষ্টা করেছে। তারা খোলাখুলিভাবে রাশিয়ার সমালোচনা করেনি তবে যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনার পক্ষে কথা বলেছে। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অনেক কিছু বদলেছে। যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং পশ্চিমের নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বিশ্বজুড়ে দেখা যাচ্ছে।

 

অনেক দেশে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে, বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছে এবং খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। রুশ ভাষ্যকাররা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এড়াতে ব্রিকস দেশগুলোর গুরুত্ব সম্পর্কে কথা বলছেন। প্রত্যুষ রাও বলেন, সম্মেলনে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কিছু একটা আশা করা যেতে পারে আর এটি রাশিয়ার জন্য স্বস্তিদায়ক হবে। ‘তবে এটিকে রাশিয়ার কর্মকাণ্ডের সমর্থন হিসাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়,’ বলেন তিনি।


Spread the love

Follow us

আর্কাইভ

June 2022
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930