বেড়াঁজালে বন্দি ওসমানীনগরের বড় দিরারাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশিত: ১০:০০ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০

বেড়াঁজালে বন্দি ওসমানীনগরের বড় দিরারাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

অন্তরা চক্রবর্তীঃঃ

বিদ্যালয় বিহীন গ্রামে ১৫শ’ বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয় স্থাপিত হলেও নানা বেড়াঁজালে বন্দি হয়ে মুখ থুবরে পড়েছে সিলেটের ওসমানীনগরে দয়ামীর ইউনিয়নের বড় দিরারাই প্রথমিক বিদ্যালয়। কাগজে পত্রে সরকারীভাবে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হলেও বাস্তবে সাইনবোর্ডেই রয়ে আছে সর্বোচ্চ সরকারীকরণ।

 

বঞ্চিত রয়েছে সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা থেকে। স্থাপনের ৮ বছর অতিবাহিত হলেও বিদ্যালয়ে সরকারীভাবে কোনো শিক্ষকও নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন ও জড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে স্থানীয়রা প্রবাসীদের সহযোগিতায় একটি ভবন নির্মান করে চারজন সেচ্চাসেবী শিক্ষকদের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে চালিয়ে গেলেও উপবৃত্তিসহ সার্বিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীরা।

 

সূত্র জানায় ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদে এক সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তৎকালিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের ১৫ শ বিদ্যালয়ের আওতায় স্থাপিত বিদ্যালগুলোতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাসের পর দেশের অনান্য স্থানে স্থাপিত বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদায়ন করা হলেও এ বিদ্যালয়টি রয়ে গেছে বঞ্চিতের খাতায়। বিদ্যালয়ে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগসহ সার্বিক সুযোগ সুবিধার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রাথমিক ও গন শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

 

জানা যায়, ওসমানীনগরের দয়ামীর ইউনিয়নের সরকারী সুবিধা বঞ্চিত বৃহত্তর বড় দিরারাই এলাকার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় কোনো সরকারী বা বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় কোমলমতি শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকতে হতো। অবশেষে গ্রামবাসী সম্মেলিত ভাবে এ ব্য্পাারে এগিয়ে এসে তৎকালিন স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় আওয়ামীলীগ সরকারের সারা দেশে বিদ্যালয়বীহিন গ্রামে ১৫শ বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় অবহেলিত এ গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনের কাযক্রম শুরু হয়।

 

সরকারী নিয়মানুযায়ী বিদ্যালয়ের নামে জমি রেজিষ্ট্রারি করে দেয়ার পর এলজিইডি কর্তৃপক্ষের তত্বাবধানে ৫০ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা ব্যায়ে ২০১২ সালে বিদ্যালয়ে গভীর নলকূপ স্থাপন ও দ্বীতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে এলজিইডির অর্ন্তভুক্ত সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

 

বিদ্যালয়ে নলকূফ স্থাপনের পর দ্বীতল বিল্ডিংয়ের কাজ হওয়ায় গ্রামবাসীর মনে আশার আলো জেগে উঠলেও ভাবনের আংশিক কাজ সম্পন্নের পর মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ। ২০১৫ সালে উচ্চ আদালত মামলাটি নিস্পত্তি করে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ প্রদান করলেও তা বাস্থবায়িত হয়নি।

 

উপজেলা এলজিইডি বিভাগের পক্ষ থেকে বড় দিরারাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণাধিন দ্বীতল ভবনের অসম্পন্ন সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরাবরে একাধিক প্রতিবেদন পাঠানো হলেও অদৃশ্য কারনে তা আজও আলোর মুখ দেখেনি। ফলে বিদ্যালয়ের সামনে থাকা অসম্পন্ন ভবনের ফাইলিংয়ের স্থানে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিহত দূর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিবছর ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেনীর প্রাথমিক সমাপনি পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করে শতভাগ ফলাফল করলেও সরকারী বিদ্যালয়ের সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে তারা। নামে সরকারী বিদ্যালয় হলেও বাস্তবে তার সুফল পাচ্ছেনা।

 

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম আক্তার, সাবেক মেম্বার আহমদ আলী, মস্তাব আলী, আব্দুল খালিকসহ বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয়টি নামে সরকারী থাকলেও বাস্তবে বঞ্চিত। বিদ্যালয়ে দিন দিন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়লেও সরকারি সুযোগ সুবিধা পেতে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দিনের পর দিন ধর্ণা দিয়েও কাজ হচ্ছে না। এব্যাপারে আমারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

 

বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সুহেল আহমদ, শিক্ষক সোহানা বেগম বলেন, আমরা নানা সংকটের মধ্যে দিয়ে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। নামে সরকারী থাকলেও একমাত্র বস্তুনিষ্ঠ পাঠদান ছাড়া সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বিদ্যালয়টি বঞ্চিত রয়েছে। সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় এবং এলাকার অন্য কোনো বিদ্যালয় না থাকায় এলাকায় জড়ে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় সরকারী প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধিন অসম্পন্ন ভবনের ফাইলিংয়ের গর্ত থাকায় ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী পাঠদান করতে হচ্ছে।

 

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা দিলীপময় চৌধুরী বলেন, ওসমানীনগর একটি নতুন উপজেলা। বিগত এক বছর থেকে এ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কাজ চালু হয়েছে। আমরা এখনও এ বিদ্যালয়ের সরকারী করণের বিষয়ে কোনো কাগজপত্র পাইনি। সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: বায়োজিদ খান বলেন, বড় দিরারাই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৫শ বিদ্যালয়ের আওতায় সরকারীকরনের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Spread the love

আর্কাইভ

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031