সিলেট ২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:৫১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০২৫
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
আজ ৬ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে হবিগঞ্জ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। মুক্ত হয় হবিগঞ্জ জেলা। ৫ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা হবিগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে এবং ৬ ডিসেম্বর ভোর রাতে পাকিস্তানি সেনাসহ রাজাকাররা শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়।
৬ ডিসেম্বর বীর মুক্তিুযোদ্ধা আব্দুস শহীদ-এর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা প্রথম হবিগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে অস্ত্র উচিয়ে হবিগঞ্জকে মুক্ত ঘোষণা করেন। পরে হবিগঞ্জ সদর থানা কম্পাউন্ডে বিজয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এসময় শহরবাসী বাংলার দামাল মুক্তিযোদ্ধাদের অভিবাদন জানায়। তারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে মুক্ত হবিগঞ্জ শহরের রাস্তায় নেমে এসে বিজয়ের উল্লাস প্রকাশ করে।
১৯৭১ সালে সারা দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা, কিশোরগঞ্জ মহকুমা, আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে ছিল ৩ নম্বর সেক্টর। এই সেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন মেজর শফিউল্লাহ। তার নেতৃত্বে হবিগঞ্জের সীমান্ত এলাকার দুর্গম অঞ্চলগুলোতে পাকিস্তানিদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ডিসেম্বরের শুরুতে মুক্তিবাহিনী জেলা শহরের কাছাকাছি এসে পৌঁছায়।
হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক জানান, আজ হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস আমাদের জন্য একটি উৎসবের দিন। আজকের এই দিনটি আমি সরকারী ভাবে পালনের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবী জানাই। তিনি বলেন- আজকের এই দিনটিকে ঘিরে জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগীতায় নানা কর্মসূচি গ্রহন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় দুর্জয় হবিগঞ্জ-এ পুস্পস্তবক অর্পন, পরে র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত থাকবেন।