সিলেট ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২৬


স্টাফ রিপোর্টার:
বিমানের ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালু রাখা ও সিলেট বিমানবন্দরকে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করার দাবি জানিয়ে অন্তবর্তীকালিন সরকারের বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান এর সাথে যুক্তরাজ্যের বৃটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে কমিউনিটির সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব কমিউনিটি নেতা ও জিএসসি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মীর্জা আসহাব বেগ এর নেতৃত্বে ডেলিগশন টিমের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
১৩ জানুয়ারী সচিবালয়ে পৃথক বৈঠকে বিমানের মানচেস্টার ফ্লাইট চালু রাখা ও সিলেট বিমানবন্দরকে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করার দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরে নেতৃবৃন্দরা বলেন, ম্যানচেস্টার ফ্লাইট যেকোনো মূল্যে জারী রাখা উচিত। সবসময় কানায় কানায় পূর্ন ফ্লাইট ম্যানচেস্টার থেকে আসে, বিমানের একটি সিটও খালি থাকে না। এমতাবস্থায় ফ্লাইট বন্ধের হেতু বোধগম্য নয়। ম্যানচেস্টার ও তার আশেপাশের শহরগুলোতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিরা বসবাস করেন। প্রয়োজন হলে এয়ারক্রাফট চ্যার্টার করে এনে বা লীজে এনে ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালু রাখা অত্যাবশ্যক।
পূর্ন ফ্লাইট থাকার পরও এই রুটে প্রতি মাসে দুই কোটি টাকার উপরে লোকসান হচ্ছে এমন কথা উপদেষ্টা ও সচিব জানালে কমিউনিটি নেতারা জোর দিয়ে বলেন, দুর্নীতি বন্ধের যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য। প্রয়োজনে ফ্লাইট চালু রেখে দুর্নীতির বিষয়ে পূর্ন ও ব্যাপক তদন্ত করুন। তবে ফ্লাইট বন্ধ রেখে তদন্ত করতে গেলে লক্ষ-লক্ষ প্রবাসীরা অহেতুক বিড়ম্বনার শিকার হবেন।
সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরকে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে নেতৃবৃন্দরা বলেন, এতে শুধু প্রবাসীরাই লাভবান হবেন না, লাভবান হবে পুরো দেশ ও দেশের অর্থনীতি। অন্যান্য এয়ারক্রাফট নামার সুযোগ দিলে অত্র অঞ্চল একটি “ট্যুরিস্ট হ্যাব” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। আশে পাশের দেশ থেকে ফ্লাইটে লক্ষ লক্ষ ভ্রমণ পিপাসুরা ১/২ দিনের জন্য সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার জন্য ছুটে আসছেন। এতে দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে। তাছাড়া বিমানের সার্ভিসের মান ও প্যাসেন্জার কেয়ারিং এর স্ট্যান্ডার্ড বাড়ানোরও দাবি জানান তারা।
নিকট অতীতে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের সময় অল্প সময়ে ৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট যদি সিলেট বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারে এবং কুয়াশার কারণে বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক মানের বড় বড় বিমান নামতে পারে, তবে নিয়মিতভাবে অন্যান্য এয়ারক্রাফট নামার অনুমতি না দেয়ার কারণ বোধগম্য নয়। অবকাঠামো বা রানওয়ে সম্প্রসারণ আসল ব্যাপার নয় আসল ব্যাপার হলো সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছার অভাব ও স্বার্থান্বেষীদের বাধা।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট আইনজীবী, লেখক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, সাবেক পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা অধ্যাপক নূরুল হক চৌধুরী, প্রবাসী সাংবাদিক সামছুল আলম লিটন প্রমুখ।