সিলেট ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৪২ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বয়স এখন ৪১। তবে জাতীয় দলের প্রধান কোচ রোবের্তো মার্তিনেজের মতে, বয়স কেবলই একটি সংখ্যা। তার ভাষায়, রোনালদোকে বিচার করা হয় বর্তমান পারফরম্যান্স দিয়ে, অতীতের সাফল্য দিয়ে নয়।
আসছে বিশ্বকাপে রোনালদো খেলতে পারলে সেটি হবে তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় এবারের আসর শুরু হতে আর এক মাসেরও কম সময় বাকি। ফুটবল ইতিহাসে এমন কীর্তি সত্যিই অবিশ্বাস্য।
লিসবনে বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্তিনেজ বলেন, `আমরা জাতীয় দলে সেই রোনালদোকে বিবেচনা করি, যে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার জন্য লড়ছে। অতীতের কিংবদন্তি রোনালদোকে নয়।‘
আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ১৪৩ গোলের মালিক রোনালদো দলে থাকবেন কি না, পর্তুগালে এখন সেই বিতর্ক নেই বললেই চলে। বরং আলোচনা হচ্ছে, বিশ্বকাপের মতো কঠিন আসরে তার ভূমিকা কী হওয়া উচিত।
মার্তিনেজের মতে, বিষয়টি খুবই সহজ, `রোনালদোকে আমরা বিচার করি অনুশীলনে তার পারফরম্যান্স এবং দলের জন্য তিনি কী করছেন, সেটার ভিত্তিতে।‘
তিনি আরও বলেন, `বয়স কেবল একটি সংখ্যা। জাতীয় দলে প্রতিদিনের অবস্থা আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পারি এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিই। আগামী দিনের বাইরে আমরা ভাবি না।‘
রোনালদোর ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট মার্তিনেজ, `বর্তমান ফুটবলে বদলি খেলোয়াড়দের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। অতিরিক্ত সময়, কৌশলগত পরিবর্তন ও পাঁচ বদলির নিয়ম ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়।
এই প্রসঙ্গে মার্তিনেজ বলেন, `এখন পাঁচজন খেলোয়াড় বদলির সুযোগ আছে। তাই শুধু শুরুর একাদশই সব নয়। আমাদের যেন একটি শুরুর দল ও একটি শেষ করার দল রয়েছে। এখানে আলাদা কোনো মর্যাদার বিষয় নেই।‘
তার মতে, রোনালদো সবসময় নিজের ভূমিকা মেনে নিয়েছেন।
২০২২ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রোনালদোকে বেঞ্চে বসানো হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই তাকে কম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে মার্তিনেজ সরাসরি সেই প্রসঙ্গে যেতে চাননি। তার মতে, সময়, ফর্ম ও কৌশল সবসময় বদলায়। তবে একটি বিষয় অপরিবর্তিত—দলে জায়গা পাওয়ার একমাত্র শর্ত যোগ্যতা।
তিনি বলেন, `জাতীয় দলে সবাই একই অবস্থানে থাকে। যে ভালো খেলবে এবং দলের জন্য নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করবে, তার খেলার সম্ভাবনাও বেশি থাকবে। বিষয়টি এতটাই সহজ।‘
শুধুই গোল নয়, দলের জন্য আরও অনেক কিছু করেন রোনালদো মার্তিনেজের অধীনে রোনালদো ৩০ ম্যাচে করেছেন ২৫ গোল। পর্তুগালের অন্য যেকোনো কোচের সময়ের তুলনায় এটি তার সেরা গোল গড়।
তবে মার্তিনেজ মনে করেন, রোনালদোর অবদান শুধু গোলের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।
তিনি বলেন, `তার দৌড়, নড়াচড়া, জায়গা তৈরি করে দেওয়া—এসব অসাধারণ। তিনি রক্ষণভাগ ভেঙে জায়গা তৈরি করতে পারেন।‘
আরও যোগ করেন, `সঠিক জায়গায় থাকার ব্যাপারে তিনি খুবই শৃঙ্খলাবদ্ধ। আমাদের আক্রমণভাগের পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করেন। এতে যেমন তিনি গোলের সুযোগ পান, তেমনি অন্য খেলোয়াড়দের জন্যও জায়গা তৈরি হয়।‘
‘অসাধারণ মস্তিষ্ক’ই রোনালদোর শক্তি। মার্তিনেজের মতে, রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পেছনে শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, রয়েছে অসাধারণ মানসিক শক্তি ও প্রতিদিন নিজেকে উন্নত করার প্রবল ইচ্ছা।
তিনি বলেন, `সবকিছু জেতার পরও তার মধ্যে সেই ক্ষুধা আছে, যেন এখনো কোনো শিরোপা জেতেননি।‘
কোচের মতে, এই মানসিকতাই রোনালদোকে ড্রেসিংরুমে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে, `অধিনায়ক হিসেবে এবং জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব কী, তা বোঝানোর ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।‘
রোনালদোকে ঘিরে আলোচনা কখনোই থামবে না বলেও জানেন মার্তিনেজ।
তার ভাষায়, `প্রতিটি ট্যাক্সিচালকেরও রোনালদোকে নিয়ে মতামত আছে, যদিও অনেকে হয়তো সাম্প্রতিক সময়ে তাকে খেলতে দেখেনি।‘
তবে নিজের দায়িত্ব নিয়ে মার্তিনেজ স্পষ্ট, `খেলোয়াড়রা সবসময় যোগ্যতার ভিত্তিতেই মাঠে নামে। আর যখন পরিবেশ অন্য কিছু দেখায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই বাছাই হয়ে যায়।‘