সিলেট ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
ভারতের শিল্পপতি গৌতম আদানি এবং তার ভাতিজা সাগর আদানির বিরুদ্ধে আনা সব ফৌজদারি অভিযোগ স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)। এর মাধ্যমে নিউইয়র্কে দায়ের করা বহুল আলোচিত সিকিউরিটিজ ও তারবার্তা জালিয়াতির মামলাটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দাখিল করা নথিতে ডিওজে জানিয়েছে, মামলাটি পর্যালোচনার পর কৌঁসুলিরা অভিযোগগুলোর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।এর পর বিচারিক বিবেচনায় এ অভিযোগে আর কোনো সম্পদ বা সময় ব্যয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে আদালত আদানি ও অন্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ খারিজের নির্দেশ দেয়। ফলে ভবিষ্যতে একই অভিযোগে মামলাটি পুনরায় চালুর সুযোগ থাকছে না।
আজ মঙ্গলবার ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যয়।
এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ভারতের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসংক্রান্ত বিনিয়োগকারীদের তথ্য গোপন সংক্রান্ত অভিযোগে গৌতম আদানি ও সাগর আদানির বিরুদ্ধে আনা দেওয়ানি অভিযোগ নিষ্পত্তি করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, গৌতম আদানি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার এবং সাগর আদানি ১ কোটি ২০ লাখ ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হন। তবে তারা কেউই অভিযোগ স্বীকার বা অস্বীকার করেননি।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) ইরান থেকে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগও নিষ্পত্তি করেছে আদানি গ্রুপের সঙ্গে। এ ঘটনায় আদানি গ্রুপ ২৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার দিতে সম্মত হয় বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
২০২৪ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের এসইসি ও বিচার বিভাগ অভিযোগ তোলে যে, আদানি গ্রুপ ভারতের সৌরবিদ্যুৎ চুক্তি পেতে প্রায় ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিল এবং সেই তথ্য গোপন রেখে মার্কিন বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে।
তবে আদানি গ্রুপের পক্ষ শুরু থেকেই এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছিল। তাদের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, মামলাটি মূলত ভারতকেন্দ্রিক এবং এতে মার্কিন আইনের ‘অতিরিক্ত ভৌগোলিক প্রয়োগ’ করা হয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে তারা উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা ভারতীয় নাগরিক, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিও ভারতীয় এবং অভিযোগের ঘটনাগুলোও ভারতে সংঘটিত হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বন্ড মার্কিন স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়নি বলেও দাবি করা হয়।
আদানিদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শীর্ষ আইন সংস্থা-সুলিভান অ্যান্ড ক্রমওয়েল, নিক্সন পিবডি, হেকার ফিংক, নর্টন রোজ ফুলব্রাইট ও ব্রেসওয়েল একাধিক আইনি উপস্থাপনা ও নথি জমা দেয়। পরে তদন্তে অভিযোগ টিকিয়ে রাখার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় ডিওজে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।