সিলেট ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডউন’ উপেক্ষা করে অবশেষে শিক্ষার্থীশূন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নিয়োগ পাওয়ার আট দিনের মাথায় ক্যাম্পাসে যান। এ সময় তাকে শিক্ষক সমিতির নেতারা ও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
জানা গেছে, উপাচার্যের আগমনের পরপরই ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে দীর্ঘদিন ধরে রাখা বিভিন্ন অবরোধমূলক আসবাবপত্র ও ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলতে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের। এতে মূল ফটক স্বাভাবিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তবে এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি ঘিরে ক্যাম্পাসে কিছুটা নীরবতা ও সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে।
ডুয়েটের শিক্ষক সমিতিরি সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া জানান, ক্যাম্পাসের শহীদ আবু সাঈদ ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ে নিজের চেয়ারে গিয়ে বসেন নতুন উপাচার্য। এ সময় শিক্ষক ও কর্মচারীরা উপাচার্যকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এর আগে গাজীপুর মেট্রাপলিটন সদর দপ্তরের সভাকক্ষে শিক্ষকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন উপাচার্য। বৈঠক শেষে শিক্ষক ও কর্মচারীরাই উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান বলে জানান তিনি।
‘লাল কার্ড ’ ও ‘ব্লকেড’ কর্মসূচির পর গত মঙ্গলবার বিকেলে ডুয়েটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা ক্যাম্পাসে পুরোপুরি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার পর গতকাল বুধবার সকালেই একেবারে ফাঁকা হয়ে যায় ক্যাম্পাস। শাটডাউন ঘোষণার পর মঙ্গলবার রাতেই বেশির ভাগ শিক্ষার্থী গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। যাদের বাড়ি অনেক দূরে তারা বুধবার সকালে ক্যাম্পাস থেকে বের হন।
ডুয়েটে কর্মরত শিক্ষকদের থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীর’ ব্যানারে তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন তারা। সংঘর্ষ, হামলা-ভাঙচুর আর টানা ছয়দিনের বিক্ষোভে টালমাটাল ছিল ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচল হয়ে যায় ডুয়েট।
মঙ্গলবার নবনিযুক্ত উপাচার্যকে প্রত্যাহার করে নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডুয়েটের কোনো শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়াসহ তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এদিন বিকেলে পুরো ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেন পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র হাসানুর রহমান।
এ সময় তিনি বলেন, ‘মিথ্যা ট্যাগ ও মামলা দিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা নতুন ভিসির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে অনড় রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে আরও কঠোর আন্দোলন চলবে।’
বুধবার বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরদের থেকে ১৫-২০ জনকে নিয়ে বৈঠক করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল। ডুয়েটের পাশে গাজীপুর উপজেলা পরিষদে এ বৈঠক হয়। এরপর আজ বৃহস্পতিবার আবার মেট্রোপলিটন সদর দপ্তরে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেলা আড়াইটার দিকে ডুয়েট ক্যম্পাসে ঢুকে নিজের কার্যালয়ে যান উপাচার্য।