সিলেট ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:২৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২৬
প্রতিনিধি / বাগেরহাট ::
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেরবিশ্
রোববার (২ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার ৬ নম্বর কয়রা গ্রামের লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদীর চরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের অধীন কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের বনরক্ষীরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব আলামত উদ্ধার করেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নদীর চরের একটি গোলবাগানের ভেতরে বিপুল পরিমাণ হরিণের মাংস মজুদ করে রাখার তথ্য পেয়ে বনরক্ষীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাশিকারিরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে প্রায় ৭০ কেজি হরিণের মাংস, দুটি হরিণের মাথা, একটি নৌকা এবং শিকারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন কাশিয়াবাদ স্টেশন কর্মকর্তা ও ডেপুটি রেঞ্জার মো. নাসির উদ্দীন।
খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “উদ্ধারকৃত হরিণের মাংস ও অন্যান্য আলামতের ঘটনায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আদালতের অনুমতিক্রমে উদ্ধার হওয়া হরিণের মাংস কয়রা উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পৃথক অভিযানে নিষিদ্ধ সময়ে কাঁকড়া শিকার, আটক ৩
এদিকে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের আওতাধীন কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের বনরক্ষীরা পৃথক এক অভিযানে নিষিদ্ধ সময়ে কাঁকড়া শিকারের অভিযোগে তিন জেলেকে আটক করেছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বন বিভাগ জানায়, গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সন্যাশীর খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবিউল ইসলাম, ফারুক সরদার ও শাহানুর সরদার নামে তিন জেলেকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি নৌকা, অবৈধভাবে আহরিত কাঁকড়া এবং কাঁকড়া ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোবাদক ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আনিসুর রহমান।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, “নিষিদ্ধ সময়ে বনাঞ্চলে কাঁকড়া আহরণের দায়ে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক তিন জেলেকে কয়রা উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”
বনজ সম্পদ রক্ষায় জোরদার অভিযান
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বনজ সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হরিণ শিকার, বন্যপ্রাণী নিধন এবং নিষিদ্ধ সময়ে বনজ সম্পদ আহরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন বিভাগ। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।