বাগেরহাটে পিত্তথলির পাথর অপারেশনের পর তরুণীর মৃত্যু

প্রকাশিত: ৮:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২৬

বাগেরহাটে পিত্তথলির পাথর অপারেশনের পর তরুণীর মৃত্যু

প্রতিনিধি / বাগেরহাট ::

 

বাগেরহাট শহরের পুরাতন বাজার এলাকার পলি ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে পিত্তথলিতে পাথর অপারেশনের পর নাসিমা আক্তার (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যু নিয়ে তীব্র অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই অপারেশন চলাকালে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী ও চিকিৎসক সুনীল কুমার দাস এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, নাসিমা হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।

 

সোমবার রাতে পিত্তথলিতে পাথর নিয়ে নাসিমাকে পলি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তার অস্ত্রোপচার শুরু হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ৪টার দিকে অপারেশন চলাকালেই তার মৃত্যু ঘটে।

 

স্বজনদের অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুর পরও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিষয়টি জানানো হয়নি। ফজরের নামাজের পর বহিরাগত দুই ব্যক্তির মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, নাসিমা আর বেঁচে নেই। খবর পাওয়ার পর ক্লিনিক এলাকায় ছুটে আসেন স্বজনরা। কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

 

নিহতের স্বামী সুমন হাওলাদার অভিযোগ করেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আড়াল করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার দাবি, বিষয়টি মীমাংসার জন্য তাদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।

 

তিনি বলেন, “আমি আমার স্ত্রীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চাই। কী কারণে অপারেশন করতে গিয়ে তার মৃত্যু হলো, সেটি তদন্ত করে দায়ীদের বিচার চাই।”

 

তবে পরিবারের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পলি ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী ও চিকিৎসক সুনীল কুমার দাস। তার দাবি, অপারেশন থিয়েটারেই নাসিমার হার্ট অ্যাটাক হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা দায়িত্বে ঘাটতি ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

 

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও ক্লিনিকের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একজন তরুণীর অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যু, মৃত্যুর বিষয়টি স্বজনদের দেরিতে জানানো এবং মৃত্যুর কারণ নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

 

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহাবুবুল আলম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

নিহত নাসিমা আক্তার বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বারোদাঁড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সুমন হাওলাদারের স্ত্রী। মাত্র ২০ বছর বয়সেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া নাসিমা রেখে গেছেন সাত মাসের একটি শিশু সন্তান।

 

মায়ের মৃত্যুর কারণ বোঝার বয়সও হয়নি শিশুটির। অথচ মায়ের বুকের দুধ ও আদর থেকে চিরতরে বঞ্চিত হলো সে।

 

যে প্রশ্নগুলোর উত্তর চান স্বজনরা

অপারেশনের আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল?
অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না?
অপারেশনের সময় ঠিক কী ঘটেছিল?
মৃত্যুর বিষয়টি স্বজনদের তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি কেন?
আর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-তদন্ত করা হবে কি না—এখন এসব প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছেন নিহতের স্বজনরা।

 

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষভাবে মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।”

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31