সিলেট ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাসে নির্বাচনী ইশতেহার ও ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অধিকাংশ লক্ষ্যই পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। কোথাও ১০০ শতাংশ, আবার কোথাও ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।
বিএনপির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো ও ৩১ দফা ইশতেহারের ঘোষণা অনুযায়ী সরকারের কতটুকু লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধামন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে সেটার একেবারে লিখিত একটি বর্ণনা বা একটি বুকলেট আপনারা পেয়ে যাবেন কাল-পরশুর মধ্যে। সেখানে দেখবেন শতকরা কতভাগ হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমি বলব, ছয় মাসের মধ্যে টোটাল যে অঙ্গীকার বা ম্যানিফেস্টোর মোটামুটি সবই পূরণ হয়েছে।’
কোথাও কোথাও ১৯/২০ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোথাও হয়তো ১০০ শতাংশ না হলেও সেখানে ৯৫ শতাংশ, ৯০ শতাংশ, কোথাও ১০০ শতাংশ রয়েছে।’
ছয় মাস সময়কে ‘প্রস্তুতিপর্ব’ হিসেবে উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যেটি অঙ্গীকার করা হয়েছে নির্বাচনের প্রাক্কালে, সেগুলো অধিকাংশই পূরণ হয়েছে। সরকারের তো ছয় মাসের মধ্যে একটা প্রস্তুতি নিতেও সময় লাগে। প্রস্তুতি পর্ব বা কর্মসূচিগুলো জোরালো গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে একটা রানআপ করতে হয় সেই রানআপের সময় যায় ছয় মাস এক বছর। তো সেইটা মোটামুটি একটা গুছিয়ে নেওয়া।’
‘প্রশাসনকে গুছিয়ে নেওয়া এবং ইমপ্লিমেন্ট করার জন্য মোটামুটি গুছিয়ে নিয়ে কাজগুলো করতে হচ্ছে। সুতরাং আপনি দেখবেন যে পরবর্তী ছয় মাস আরও জোরালোভাবে কর্মসূচিগুলো সফল বাস্তবায়ন হবে,’ যোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিবের পদত্যাগ প্রসঙ্গেও কথা বলেন রিজভী। এর আগে দুপুরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়ে শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় ও মন্ত্রণালয়ের পদে বহাল থাকবেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘সমাজকল্যাণ মন্ত্রী যেটা বলেছেন আমার বলার মধ্যে কোনো কন্ট্রাডিকশন নেই। খামাখা এটা করার কোনো কারণ নাই। আমি যেটা বলেছি, দলের নির্দেশক্রমে বলেছি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব যেটা বলি সেটাই বলেছি। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে আইনগতভাবে এখানে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যে শপথ করার পূর্বে দলের পদ থেকে বা সরকারের অন্য পদমন্ত্রী হোক বা এমপি হোক এখান থেকে যে পদত্যাগ করতে হবে এ ধরনের কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু যেহেতু উনি দলের মহাসচিব, রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের পক্ষ থেকে; এ কারণে তিনি মনে করেছেন নৈতিক কারণে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেছে পদত্যাগ করবেন। এই হিসেবে তিনি পদত্যাগ করেছেন; যেটি দলের যে নির্দেশ সেই নির্দেশ অনুযায়ী আমি আপনাদের কালকে বলেছি।’
পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘সেটা যখন দল যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সেভাবেই আপনাদের জানিয়ে দেব। এখানে কোনো ঘাটতি থাকবে না। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ দেখেছেন- আমরা আপনাদের জানিয়ে দিয়েছি।