পালং শাকের যত গুণ

প্রকাশিত: ৪:৫১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০

পালং শাকের যত গুণ
Spread the love

১০ Views

গ্রাম বাংলায় শতিকালেই বেশি পাওয়া যায় পালংশাক । পালংশাক পৃথিবীব্যাপী সুপরিচিত পুষ্টিতে ভরপুর শাক। পুষ্টিতে ভরপুর একটি সুস্বাদু শীতকালীন শাক। তা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজে পরিপূর্ণ একটি সবজি।

 

পালংশাক পুষ্টিগুণে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তাকে পুষ্টির শক্তিঘর (nutritional powerhouse) বলা হয়। বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান থাকায় আবালবৃদ্ধবনিতা সবার জন্য খাওয়া পাতে, মাঝে মাঝে পালংশাক থাকা দরকার। পালংশাকের আদিবাড়ী প্রাচীন পারস্য দেশে। অথচ বর্তমানে পুষ্টিগুণে শ্রেষ্ঠ এই সবজিটির সর্বাধিক উৎপাদন হয় আমেরিকা ও নেদারল্যান্ডসে। আমাদের দেশেও এ উৎকৃষ্ট সবজিটির চাষ বাড়িয়ে, স্বাস্থ্যকরভাবে তা নিয়মিত খাওয়ার জন্য জনগণকে জাতীয়ভাবে উৎসাহ ও পরামর্শ দেওয়া উচিত।

 

যেমন : ভিটামিন A, C, E, K, B1, B6, ফলেট, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, তামা, দস্তা ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডসহ অন্যান্য অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যের একটি চমৎকার উৎস।

 

* পালংশাক গর্ভস্থ শিশুর সুস্থ ক্রমবিকাশ, জন্মগত ত্রুটিরোধ ও গর্ভবতী মায়েদের সুস্বাস্থ্য রক্ষা করে।

* মস্তিষ্ক সচল ও তাজা রাখতে পালংশাকের জুড়ি নেই। স্নায়ুর সজীবতা, চৌকস মানসিকতা, স্মরণশক্তি বৃদ্ধি ও তা ধরে রাখতে সাহায্য করে, বিভিন্ন স্নায়ুবিক বৈকল্য রোধ করে।

* পালংশাক খেলে চামড়া মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়, চুল হয় ঝলমলে। তা চামড়ায় তারুণ্য ধরে রাখে, সহজে বলিরেখা পড়তে দেয় না, চামড়া ও চোখের বার্ধক্য রোধ করে।

* পালংশাক পরিপাকনালির শ্লৈষ্মিক ঝিল্লিকে (mucous membrane) পিচ্ছিল ও সতেজ রাখে, মুখে ও পেটে আলসার হতে দেয় না, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়, খাদ্য হজমে ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

* পালংশাকের ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ অস্থিকে মজবুত রাখে, হাড় ক্ষয়রোধ করে, বাতব্যথা, মাইগ্রেনসহ অন্যান্য মাথাব্যথা হতে দেয় না।

* পালংশাক রক্তের লোহিত কণার (red blood cell) পরিপূর্ণতা বাড়ায়, চুলপড়া রোধ ও রক্তশূন্যতা দূর করে।

* পালংশাক মুখগহ্বর, খাদ্যনালি, প্রস্টেটসহ বিভিন্ন জায়গায় ক্যানসার প্রতিরোধ করে। তা হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী একটি মহামূল্যবান সবজি। পালংশাক হার্টসহ রক্ত সংবহনতন্ত্রকে নিরাপত্তা দেয়, হৃদসংকোচন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

* পালং দেহের ইমিউনিটি বা প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে। তা কিডনি ও মূনালিতে জীবাণু সংক্রমণ হতে দেয় না এবং অন্য অনেক রোগের আক্রমণ থেকে বাঁচায়।

 

লেখক : ইয়ামাগাতা হাসপাতাল, লালমাটিয়া, ঢাকা

 


Spread the love