সিলেট ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১
ক্রিড়া প্রতিবেদকঃঃ
এক বুক কষ্ট নিয়ে সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের এক সময়ের নির্ভরযোগ্য ওপেনার শাহরিয়ার নাফীস।গত আট বছর ধরে জাতীয় দলে ফেরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন এ সাবেক ওপেনার।২০১৩ সালের জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে ভালো পারফর্ম করায় বাদ পড়েন তিনি। এরপর আর সুযোগ পাননি জাতীয় দলে।
শনিবার দুপুর ১২টায় হোম অব ক্রিকেটে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেন নাফীস। ইতি টানেন ১৬ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের।নাফীসের এ অবসরে তার অনন্য দুই কীর্তি স্মরণ করেছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। প্রায় দেড় দশক আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুইটি অনন্য কীর্তি করে দেখিয়েছেন নাফীস, যা এখনও পর্যন্ত ছুঁতে পারেনি বাংলাদেশ দলের অন্য কোনো ক্রিকেটার।
২০০৬ সালে ক্যারিয়ারসেরা ফর্মে ছিলেন নাফীস। সে বছরের এপ্রিলে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন শাহরিয়ার নাফীস। ব্রেট লি, জেসন গিলেস্পি, শেন ওয়ার্নের মতো কিংবদন্তি বোলারদের তুলোধোনা করেছিলেন নাফীস। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ফরম্যাটে এখনও পর্যন্ত একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান নাফীসই।
সেদিন ঘরের মাঠ ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ফিফটি করেন হাবিবুল বাশার ও রাজিন সালেহ। তাদের ছাড়িয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক টেস্ট সেঞ্চুরি করেন নাফীস।১৩১ বলে ১৬টি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি সাজিয়েছিলেন নাফীস। বাঁ হাতি এ টপঅর্ডারের সেই সেঞ্চুরি দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা সেঞ্চুরির আখ্যা পেয়েছে।
এ তো গেল প্রথম কীর্তি যা তামিম, মুমিনুল, মুশফিক বা সাকিবদের কারও নেই।দ্বিতীয়ত ওয়ানডে ক্রিকেটে এক বছরে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি ও একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে ১ হাজার রান করার কীর্তিও নাফীসের। ২০০৬ সালে ৩ সেঞ্চুরিতে ১০৩৩ রান করেছিলেন তিনি। এ রেকর্ড আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোনো এক ফরম্যাটে এক বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের এক হাজার বা তার বেশি রান করার একমাত্র নজির।
নাফীস ছাড়া যে কোনো এক ফরম্যাটে এক বছরে হাজার রানের বেশি করে দেখাতে পারেননি আর কেউ-ই। ৮০০ রানের বেশি রান করেছেন ইমরুল কায়েস ও তামিম ইকবালরা। এ দুটি কীর্তিকে অক্ষুণ্ন রেখেই শনিবার সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন শাহরিয়ার নাফীস।