শশুর বাড়ি থেকে ঈদের কাপড় না আসায় ওসমানীনগরে অন্তস্বত্তা গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০২১

শশুর বাড়ি থেকে ঈদের কাপড় না আসায় ওসমানীনগরে অন্তস্বত্তা গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ
Spread the love

২৬০ Views

প্রতিনিধি/ওসমানীনগরঃঃ
সিলেটের ওসমানীনগরে গৃহবধুর পিত্রালয় থেকে পাঠানো ইফতারীতে বরের জন্য আলাদা করে সাজানো থালা না থাকায় সৃষ্ট পারিবারিক জগড়াসহ আসন্দ ঈদে নতুন কাপড় না পাওয়ায় বিয়ের ৯ মাসের মধ্যে সাত মাসের অন্তস্বত্তা এক গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

 

থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বনিকের নেতৃত্বে তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে নিহতের স্বামী আরশ আলী ও শাশুড়ী মিনারা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত শরিফা বেগম (২০) নবীগঞ্জ উপজেলার পিটুয়া গ্রামের শাকিম উল্যার ছোট মেয়ে।

 

তবে থানায় আটককৃত স্বামী ও শাশুড়ির দাবি পরিবারের সবার অজান্তে শরিফা আত্মহত্যা করে মৃত্যু বরন করেছে। যদিও গতকাল শনিবার দুপুরে পুলিশ তার স্বামীর বাড়ি নিজ ঘরের বিছানা থেকে নববধূর লাশ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় এ ব্যাপারে দুইজনকে আটক দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুুতি চলছে বলে সূত্র জানায়।

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা, প্রায় ৯ মাস আগে উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের তাহিরপুর গ্রামের মৃত ইছন আলীর পুত্র আরশ আলীর সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন নবীগঞ্জ উপজেলার পুটিয়া গ্রামের শাকিম উল্যার ছোট মেয়ে শরিফা।

 

বিয়ের কিছু দিন পর যৌতুক সহ নানা অযুহাতে স্বামী আরশ আলী ও শাশুড়ী মিনারা বেগমের নির্যাতন বৃদ্ধি পেতে থাকে। নিজে অন্তস্বত্তা থাকায় তাদের নির্যাতন সহ্য করে গর্ভের সন্তানের আলোর মুখ দেখাতে তাদের সকল নির্যাতন সহ্য করেই স্বামীর বাড়িতে পরে থাকেন শরিফা।

 

চলতি রমজান মাসে তার পিত্রালয় থেকে ইফতারী দিতে দেরি করায় এবং ইফতারীর সাথে বরের জন্য আলাদা ভাবে সাজানো থালা না দেয়ায় অন্তস্বত্তা শরিফার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় শরিফার পিত্রালয় থেকে স্বামীর বাড়ির লোকজনের জন্য ঈদের নতুন কাপর না আসাকে কেন্দ্র করে শাশুরীর সাথে কথা কাটাকাটির জের ধরে আরশ আলীও মিনারা বেগম মিলে মারপিট করেন শরিফাকে। বিষয়টি তাৎক্ষনিক মোবাইলফোনের মাধ্যমে শরিফা তার ভাইকে অবগত করে পরে কথা বলবে বলে ফোন রেখে দেন। এমতাবস্থায় সেহরির সময়ে শরিফার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পান তার ভাই-বোনরা।

 

গতকাল শনিবার বড় বোন শিপন আক্তার শরিফার স্বামী শাশুড়ীর জন্য নতুন কাপড় নিয়ে আরশ আলীর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেই পথিমধ্যে শরিফার ভাশুরের মাধ্যমে খবর পান তার বোন খুবই অসুস্থ। এর কিছুক্ষনের মধ্যে আবার খবর আসে শরিফা আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরন করছে।

 

খবর পেয়ে দুপুরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শরিফার শরিলে একাধিক আঘাতের চিন্থ থাকা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

 

নিহতের বড় বোন শিপন আক্তার ও ভাই মিনার হোসেন বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার বোনের ওপর তার স্বামী ও শাশুড়ী যৌতুকসহ নানা অযুহাতে নির্যাতন করতো। তাদের নির্যাতনের কারনে আমরা তাকে নিয়ে যেতে চাইলেও গর্বের সন্তানের অভিষ্যৎতের কথা চিন্তা করে আমার বোন সব কিছু নিরবে সহ্য করে যেত।  আমরা গরিব মানুষ লকডাউনের কারনে অভাবঅনটনে চলতি রমজান মাসে ইফতারী পাঠাতে দেরি ও আরশ আলীর জন্য আলাদা করে সাজানো থালা না দেয়ায় তার স্বামী ও শাশুড়ী শরিফাকে নানা ভাবে নির্যাতন করে।

 

সর্বশেষ নতুন কাপড় পাঠাতে দেরি করায় তারা আমার বোনকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিয়ে তার গর্ভের সন্তানটিকেও আলোর মুখ দেখতে দিলো না। ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়ে প্রশাসনের উর্ধ্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

 

ওসমানীগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শ্যামল বনিক বলেন, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। লাশের গায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের স্বামী ও শাশুড়ীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Follow us

আর্কাইভ

December 2022
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031