সিলেট ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২৫
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
মো.জিল্লুল হক একটি নাম,একটি ইতিহাস।পশ্চিম পৈলনপুরের জাতীয়তাবাদী চিন্তা চেতনার মানুষের রাজনৈতিক অভিভাবক ছিলেন তিনি। নীতি ও নৈতিকতার কাছে নতি স্বীকার না করা এই মানুষটি আজীবন নিপীড়িত,নির্যাতিত মানুষের পক্ষে লড়াই করেছেন।
সংগ্রামী এই জননেতা মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির অন্যতম উপদেষ্টা ছিলেন। পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন সফল চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের সেবা করেছেন। পশ্চিম পৈলনপুরের সার্বিক উন্নয়নে মরহুম জিল্লুল হকের অবদান অতুলনীয়।
তিনি ছিলেন নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের খুব কাছের লোক। আজকের নেতাদের মতো কোনো ‘সাঙ্গপাঙ্গ’ নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়নি তাঁকে। যেখানেই মানুষের উপস্থিতি দেখেছেন সেখানেই বসে জমিয়ে আড্ডা দিয়েছেন। প্রতিদিন ভোরে ছুটে যেতেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। খোঁজ নিতেন মানুষের। রাত অবধি তিনি ইউনিয়নের অলি গলি ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে সময় কাটাতেন।গোটা ইউনিয়ন ছিল তার বাসস্থান।
সদালাপী এই মানুষটির জন্ম ১৯৪৯ সালের ২২ মে বৃহত্তর বালাগঞ্জের বর্তমান ওসমানীনগর উপজেলার গলমুকাপন গ্রামে।তার বাবা মরহুম আবদাল গণি ছিলেন একজন স্বনামধন্য ধণাঢ্য ব্যক্তি।মা মরহুমা সুনাই বিবি ছিলেন গৃহিণী।চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে।করেছেন কারাবরণও।
১৯৯২ সালে পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।এলাকার নেতৃত্ব দেয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেয়াদে পালন করেন ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি,উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক,বৃহত্তর গলমুকাপন পঞ্চায়েত পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব।
জিল্লুল হক তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে যেমন ছিলেন জনপ্রিয় নেতা, তেমনি ছিলেন পশ্চিম পৈলনপুরবাসীর ভালোবাসার অভিভাবক। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জয় করেছেন পশ্চিম পৈলনপুরবাসীর মন।সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন মানুষের কাছে, দুর্ভোগে থেকেছেন তাদের পাশে।
গণমানুষের নেতা জিল্লুল হকের মৃত্যুতে আজো কাঁদে গলমুকাপন, কাঁদে পশ্চিম পৈলনপুর,কাঁদে দলীয় নেতা-কর্মীরা ও বৃহত্তর বালাগঞ্জের আপামর জনতা।