সিলেট ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
কাস্টমসের সিএন্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) এজেন্ট লাইসেন্স পরীক্ষা আয়োজন করেও ফলাফল প্রকাশ করতে পারছে না কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি (সিইভিটিএ)।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অনৈতিক তদবির ও প্রভাবশালী মহলের চাপ সামলাতে না পেরে ফলাফল আটকে রাখা হয়েছে। যদিও বিধি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন সংস্থা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি (সিইভিটিএ) পরীক্ষাটি আয়োজন করে। পরীক্ষা পরিচালনা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, আবেদন যাচাই-বাছাই ও ফল প্রকাশের জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাস ও জাহাজীকরণ কার্যক্রমে কাস্টমসের সহায়ক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন সিএন্ডএফ এজেন্টরা।
পরীক্ষা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য বিবেচিত ২ হাজার ৯৮৭ জন আবেদনকারীর মধ্যে অংশ নেন ২ হাজার ৫২১ জন। ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ৪০ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন ২১০ জন। সিএন্ডএফ লাইসেন্স বিধিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর না পেলে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরীক্ষা কমিটির একাধিক সদস্য কালবেলাকে বলেন, পরীক্ষার দিন রাতেই (১৬ মে) উত্তীর্ণ ২১০ জনের তালিকাসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে কমিটির ছয় সদস্য স্বাক্ষর করেন। রবিবারের মধ্যে ফল প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন তা আটকে দেওয়া হয়েছে, আমাদের কিছু জানানো হয়নি। পরীক্ষা কমিটির আরেক সদস্য অভিযোগ করেন, ২১০ জনের তালিকার বাইরে আরও শতাধিক পরীক্ষার্থীকে পাস করানোর জন্য এনবিআরের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু কমিটির অন্য সদস্যরা তাতে রাজি হননি। এরপরই ফলাফল প্রকাশ স্থগিত হয়ে যায় বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
তার বলছেন, এনবিআরের পক্ষ থেকে পাঠানো তালিকায় এমন পরীক্ষার্থীর নামও ছিল, যারা ১০ নম্বরও পাননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির মহাপরিচালক ম. সফিউজ্জামান কালবেলাকে বলেন, এনবিআর থেকে নির্দেশনা পেলে আমরা ফল প্রকাশের ব্যবস্থা নেব। তবে অনৈতিক তদবিরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। এছাড়া কতজন পরীক্ষার্থী পাস করেছেন এবং কেন ফলাফল প্রকাশ না করে এনবিআরের মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে-সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
তিনি আরো বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শের জন্য বিষয়টি এনবিআরে পাঠানো হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আইন অনুযায়ী পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য এনবিআরের অনুমোদন বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বরং ফল প্রকাশে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপকে তারা অনৈতিক বলেই মনে করছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।